Translate

Saturday, January 3, 2015

(কবিতা , আলোচনা , হাইকু ) : জিতেশ ভট্টাচার্য

জিতেশ ভট্টাচার্য  শিলচর NIT থেকে পাশ করে এখন গৌহাটিতে কর্মরত।  উনার সব সৃষ্ঠিই বর্তমান রাজনৈতিক আর সামাজিক ঘটনাবলীর উপর।  নি:সন্দেহে আপনাদের ভালো লাগবে ও চিন্তার সাথে মিলে যাবে।  আসুন সবাই মিলে উপভোগ করি  :

 

।। ‘জঙ্গ্‌’কার ।।

==========

পেটে পেটে তাহাদের কত শত বুদ্ধি
করিল হজম সব বিনা মুখশুদ্ধি
জিলাপি, লবঙ্গ সাথে আর যত খাদ্য
তাহাদের কাবু করে আছে কার সাধ্য
দেশী ও বিদেশী ব্র্যাণ্ড যতবিধ মদ্য
আধুনিক বাহারের যাবতীয় পদ্য
রাজনেতা, অভিনেতা, ছাগু আর চাড্ডি
অনায়াসে চিবাইল সকলের হাড্ডি
জীবন-মুখী গান, টি-টুয়েন্টি কির্‌কেট
গিলিয়াছে আজীবন দিনরাত ভরপেট
বিপ্লব ঘাঁটিয়া তারা করিয়াছে লস্যি
হ্যানোত্যানো যত ‘বাদ’ সাধারণ নস্যি
তুড়িতে হজম হল কত শত পুস্তক
ধৌত মগজ দেখে ‘আম’জন বুর্‌বক
অধুনা ‘আজাদি’ করে পরিপাক উত্তম
গঞ্জিকা কলিকায় প্রাণঘাতী দেয় দম
কণ্ঠ ছিঁড়িয়া করে সাতিশয় ‘জঙ্গ্‌’কার
তেল ঢেলে মাথা খায় বারোয়ারী চরকা’র
মাওবাদ, লাওবাদ ইত্যাদি আবাদে
দক্ষতা স্তালিনের জামাতার সুবাদে
অবশেষে খাইবারে দেশ করি ‘টুকড়া’
ক্ষুধা মিটাইতে চায় প্রতিবাদী ছোকরা!


ক্ষমিও হে কবিগুরু !!
।। খঞ্জরের পৃষ্ঠভঙ্গ ।।
=============
আজি এ হাভাতে ছবির বর
কেমনে বসিল চাটুর পরকেমনে সহিল লোহার গরমে বাঁচায়ে নিজের জাননা জানি কেন রে অষ্ট প্রহরে চুলকায় নিজ কানচুলকায় নিজ কান,ওরে তৈল দে তাড়াতাড়িওরে কানের যাতনা প্রাণের জ্বালায় ছাড়িতেছে যেন নাড়িফরফর করি নাচিছে শফরী
বস্ত্রাভরণ নাহিকো বশে
দুলিয়া দুলিয়া জলিল, অখিল
মারিতেছে কাছা অতিশয় কষে
আগায় মাথায় ছাগলের প্রায়
নাচিয়া কুঁদিয়া সকলি চিবায়
খাইবারে চায় আমূল ধরায় না চেনে গরল কিম্বা সার
যেন রে বিমাতা পাষাণ হেন
ব্ল্যাক টি’র সাথে দিতেছে জ্ঞানও
ভাঙ রে বাসন, ভাঙ রে আসন
বাদ দে আজিকে পঠন পাঠন
প্রহরীর ঘরে সিঁদটি কাটিয়া
আঘাতের পর আঁতাত কর।
ক্ষেপিয়া যখন উঠেছে জোয়ান
কিসের বিবেক, কিসের ধেয়ান!
রিরংসা যবে মেলিয়াছে ডানা
জগতে তখন কিসের মানা!
আমি ঢালিব পাত্র ভরিয়া
গিলিব নাচিয়া কুঁদিয়া ঘুরিয়া
আমি তাবৎ পাড়ায় বেড়াব গাহিয়া
ব্যাকুল লাগাম-ছাড়া
কেশ এলাইয়া খেউড় কুড়াইয়া
তুড়িটি মারিয়া সকল উড়াইয়া
নিষ্ঠা ভরিয়ে বিষ্ঠা ছড়ায়ে দিব রে যতেক গালি
শিখর হইতে কী করে নামিব
ভূধর হইতে উদরে ছুটিব
খেয়ে ঝটপট দিব চটপট সমূহ খিস্তি খালি
এত জ্ঞান আছে, এত শান আছে, এত মান আছে মোর,
এত পেশা আছে, এত নেশা আছে-প্রাণ হয়ে আছে ভোর।
কী জানি কী হল আজি, চুলকায় ফের কান-
উন্নয়নের মহাকল্লোল; এই বুঝি সে প্রমাণ।
ওরে, চারিদিকে শোর
দে বন্ধ করে দোর
ভাঙ ঠ্যাঙ ভাঙ খাড়া, আগাতে আঘাত কর্‌
ওরে কী মাল আজি পিলায়েছে সাকি
ডেভিল করেছে ভর ।।


 ।। উজ্জীবন ।।

=========

ছত্রিশমাথার মোড়ে দাঁড়িয়ে নির্বোধ
ভুলে গেছি কোথায় যাবার কথা ছিল
জন্মান্তর থেকে অদ্যাবধি স্নিগ্ধতার খোঁজ
চারিয়ে গেছে অন্তঃপুরে সদর্থক পরশে
কালোরাত ভেদ করেছি অরণ্যচারী হয়ে
গুপ্ত প্রস্তাবে হয়েছি কখনো নভোচর
পাখা খসে গেছে একদিন মর-বাসনায়
লক্ষ্যহীন পুনর্মূষিক ছুটেছি প্রতিযোগে
অতঃপর পৌঁছে গেছি ছত্রিশমাথার মোড়ে
ভুলেছি যদিও কোথায় যাবার কথা ছিল
আশ্চর্য রহস্যক্ষণে মিলিয়ে গেছে খেদ
মগজে প্রার্থনাধ্বনির অনুরণন শুনি ক্রমাগত
ধরণীর দ্বিধা নয়, আশ্রয়েরই স্নেহ আমন্ত্রণ
আকালের দিনে সংগ্রাম, আদ্যন্ত উজ্জীবন।



।। আয়োজন ।।

==========
দুটি সমান্তরাল রেখা অঙ্কন
জানি সম্ভব নয় আর কোনোমতে
অধিকার অর্জন আর আন্দোলনলোকে
কৃষিজমিও ধারণ করে নিজস্ব বাসনাকোনো লোকোত্তর নির্মিতিলোভেঅনিবার্য হয়ে পড়ে ব্যস্ত আনাগোনাব্যাপ্ত ছত্রছায়ায় অধুনা নিরঙ্কুশ
প্রতিরোধ ছেড়ে খুঁজি স্থায়ী প্রতিকার
নয় ক্ষণিক চমকের ফাঁকি শুভঙ্কর
সন্দেহবশে কে চায় অকালবোধন?
রণনীতি ভাবে মগ্ন সঙ্ঘগৃহবাসী
হে অপরূপ, বোঝো কেন এত আয়োজন।


।। হননঘন্টা ।।
==========
পড়ে আছে অনাবাদী প্রান্তর
একদিন মুক্তাঞ্চল হবে ইস্তাহারে
অথচ সে যেন বিচরণভূমি নয় আর
বুভুক্ষার নিষ্ফলা চাষবাসে
পরিতৃপ্তি জানে শুধু সহাস্য অনাহার
বায়ূ মথিত করে অসহ লাঞ্ছনা
অহোরাত গর্জিত স্লোগান
মার্জনা পেয়েছে কারা; জানো কেউ?
হননঘন্টা বাজে অবিরাম
জনসমুদ্রে দোল দেয় পরিমিত ঢেউ।


।। বিকল্প সিদ্ধান্ত ।।
============
কেটে গেছে অশিষ্ট যাম, চেয়ো না তবু অবসর
বাকি আছে কিছু কথামালা, আদিষ্ট যন্তর-মন্তর
উদ্বৃত্ত উচ্ছিষ্ট জানি, তবু যথাযথ মূলভূত ঘ্রাণ
আদ্যন্ত তন্ত্রযুগে বুঝে নিতে হবে বনেদী আখ্যান
অহংকৃত্যেই সঞ্জীবনীসুধা, নেশাভরা স্বচ্ছ তরল
অন্ত্যমিল দেখে মনে হয় অতিক্রান্ত সুবর্ণ শৃঙ্খল
স্বপ্নগর্ভে নিবিষ্ট পরম্পরা; সুরঞ্জিত মিশ্র উপাদান
বিশদ দহনশেষে থেকে যাবে একমাত্র উদরপুরাণ
অসম্ভব ভিক্ষে নিতে যাবো অপর গোলকপ্রান্তে
ক্ষুদ্র পতঙ্গও জানে জীবনের গান বিকল্প সিদ্ধান্তে
অস্পষ্ট এই পদচিহ্ন অচেনা ছিল না কোনোদিন
অনুসরণ করি আজও; একাকী পথে জীর্ণ অজিন।


।। পাকদণ্ডির বাঁকে ।।
==============
দাবানল হয়ে ওঠে ক্রমে মুষ্টিমেয় ক’টি প্রিয় শুভদিন
দৃপ্ত অন্ধরোষে পরাজিত যত পন্থায় হাঁটে অহংকার
নির্ঘোষক্ষণেও পতনে উন্মুখ, সূক্ষ্ম রজ্জু জানে সে কী টান
নগরপ্রিয় সংস্কৃতিতে মোড়া অষ্টপ্রহর যেন বিস্রস্ত বাজার
অনেক রাত হয়েছে প্রিয়, সঙ্গীতবাসরে থেকো না আর
এক্ষুনি ফিরে যাও ঘরে; ওই দেখো ডাকে লক্ষ্মণরেখা
গুনে নিও সমূহ মুগ্ধ দৃষ্টিপাত অন্তরে তুমি হও কেন্দ্রমুখী
শিখরযাত্রায় পাকদণ্ডির বাঁকে জেনো একদিন হবে দেখা।


।। নিরাময় ।।
=========
জানি না কি থাকে অবচেতনে
শুধু বুঝি যাপন জুড়ে আছে
আশ্রয়ের আশায় নিয়ত সন্ধান
কোনো পীঠস্থানের পাদদেশে
ঈশ্বরচেতনার কঠিন প্রয়াসে রত
গুনে যেতে থাকি অসংখ্য রুদ্ধদ্বার
সময়যন্ত্রে সফর হবে কোনোদিন
বিস্ময়সুখের নম্র উচ্ছাসে অনায়াস
ফিরে পাবো বৃষ্টিরূপে বাষ্পীয় জল
অভিমান ভুলে সামান্য আপোষে
মুগ্ধশ্রাবণে এসে যাবে মন্থর ভেসে
মথিত হৃদয় সাথে হারানো সঞ্চয়
অতীতের স্মৃতিমেশা পূর্ণ নিরাময়।


।। প্রসারিত হও ।।
===========
সুদীর্ঘ অধ্যায়শেষে শিথিল নোঙর, উঠেছে শতকণ্ঠে মুক্তির শ্লোগান
ঝোড়ো হাওয়ার তীব্র আশ্লেষে হাতে নিও প্রহরণ, হে অনিচ্ছু ভগবান
হে নাবিক, শোনো নিশ্চিত ক্রান্তির দাবী দুর্বার, আগ্রাসী ভাটির টানে
সমর্থ থেকো রাষ্ট্রবিপ্লবে, শ্মশানে; বিজয়োৎসব থেকে পরাস্ত অভিমানে
সারবান উৎকোচভূমি; অতিক্রান্ত অভিলেখে সিঞ্চিত অসীম মহীরূহ
গোধূলীর আভায় ভেদ হবে একদিন জানি জটিল গ্রন্থিগ্রস্ত দুরূহ চক্রব্যূহ
সঙ্কটের দিনে প্রসারিত হও প্রিয়, অভ্রভেদী প্রত্যাহ্বানে নির্ভীক সটান
লোকায়ত প্রতিবাদ-সুরে মুখর করে তোলো সেদিন জমিন-সে-আসমান।



।। উভচর ।।
========
তোমার স্পর্শে বুঝি এখনো জাগে
সঙ্গীতের সুর, দেবতার গৃহে কাঁপে
অকলঙ্ক শিখা নিয়ে একটি প্রদীপ
অর্থহীন, অবিরল অশ্রুত সংলাপে।তাল কাটে নিরাশার অসহ্য বিলাপে
গার্হস্থ্যের কোণে খুঁজি মৌন মশান
বহিরঙ্গে বর্দ্ধমান ঠুনকো জৌলুশে
খোলস পরিয়ে রাখা ব্যথার প্রমাণ।
বর্ষবিদায়ের দিনে আজো মনে পড়ে
অস্থায়ী সম্পর্কঘেরা নড়বড়ে ঘর
নিষ্ফল, তবু গড়ি বালি দিয়ে বাঁধ
হতে হয় সুদক্ষ সাঁতারু উভচর।


।। প্রহরবিদায় ।।
===========
দর্পণে আজন্ম প্রতিবিম্ব দেখি যার
অভ্যাসবশে নিয়ত বারোমাস
বারম্বার কেন মনে হয় সে আজো
চেনা নয় ঠিক; অচেনাও নয় ততদূর

বেশভূষায় সঙ্গতি সচরাচর নির্ভুল
পদক্ষেপে মেপে নেয় পরিধি পার্থিব
প্রতারক প্রতিশ্রুতি মেশে কোথাও
সুরে; উদ্গীত ত্বরিৎগতি স্বস্তিবচনে

ছড়ানো চাল খেয়ে যায় নিঃশেষে তবু
বুভুক্ষু শাবক, পক্ষীমাতা যাপনের দায়ে
অবিরাম বিন্দু বিন্দু বারিপাত, আশ্বস্ত ধরায়
নিঝুম বর্ষারণ্যে একে একে হয় প্রহরবিদায়।


।। শক্তি-উপাসক ।।
============
বসন্তের দিনে কেউ বিদ্রোহী নয়
এই সূত্রে জাগো প্রাকৃত উৎসবে
কৃপাকণায় বাঁধা আছে প্রত্যেক প্রাণ
জয় আর পরাজয়ে; দীনতা, বৈভবেথামে না কখনো নেতি-প্রতিযোগ
সম্পৃক্ত বায়ূতে শুধু হাহাকার-ধ্বনি
ভাবনায় ওষ্ঠাগত উচ্ছল যাপন
সুপ্রসঙ্গ সরে যায় আপনা-আপনি
সমুদ্রযাত্রায় যেও নিশ্চিত তুমি একা
সঙ্গে নিও দুয়েকটি পার্থিব স্মারক
অন্য পৃথিবীর কাছে জমা রেখো সব
অধিকার, হে নিরঙ্কুশ শক্তি-উপাসক।



।। প্রতিকার ।।
=========
বেদনার প্রতিলিপি দিও তাকে
নিঃশর্ত্ত সঁপেছো যাকে প্রস্তাবনা
শুষে নেবে অকাতরে বিস্মরণগহ্বর
নগরপ্রাকার জুড়ে বিধৃত ঘোষণা।প্রতিকার পেয়ে যাবে নৈর্ব্যক্তিক
যাও যদি অরণ্যের গূঢ় অন্তঃপুরে
শিখে নিও নির্ভুল শ্রুতলিপি লেখা
যেমন বলা আছে বীজপত্রে, অঙ্কুরে।
পরিত্রাণ নেই জন্মগত ক্রোধ থেকে
নাছোড় আগাছাযুগে নেই নিবারণ
সঞ্চিত অপমান নিয়ে মুক্ত কারাগারে
নির্বাক তাকিয়ে দেখো ধর্মের পতন।


।। হৃদয়পুর ।।
=========
করতালিতে কবিতা হয়?
বা ব্যর্থ প্রেমের বিষাদক্রন্দনে?
পেতে পারি কাব্যের পরশ
বিনিদ্র রাতের বিস্তৃত উপাখ্যানে?
অক্ষম সন্তাপে স্পর্দ্ধা মেশে কখনো?
অবোধ্য সন্ত্রাসে প্রেমের সুর?
স্খলিতপদে চলি নির্দ্ধারিত পথ ধরে
জাগে না কি কোথাও হৃদয়পুর?



।। ভবিতব্য ।।
=========
এ শুভনাম বহন করে যায় গুরুভার শিরোপায় গ্রন্থিত বিবিধ বিশেষণ
শীর্ণ পাদপ কেন আজন্ম অসহায়,ভেবেছি কথাটি বটে নিষ্ফল আবেগে
গোটা দুই প্রজন্ম পেরিয়ে এসে জেগে ওঠে ফের নিশ্চিত প্রতাড়নভীতি
রাজপাট কাঁপে ঘোর অনাচারস্রোতে জমাট সন্দেহে ক্রমে প্রস্তরপ্রত্যয়
ঠেকেছে তিনকাল এ কোন সীমানায়, স্নেহ-মায়া-দয়া-প্রীতি সমূহ প্রান্তিক
ভেবেছো দুঃস্বপ্নঘোর অস্থায়ী বিভ্রম; কেটে যাবে কোনোদিন মায়াবী পরশে
শৃংখলে বাঁধা থাক ততদিন অটুট সংযম, হিমায়িত অহং-এর ক্ষুদ্র আশিস
রক্তচক্ষু স্পষ্ট দৃশ্যমান চিড় খাওয়া বাঁধে, ভয়ে কাঁপে দুই কূল ত্রস্ত নিরবধি
শোণিতসংকল্পে যুযূধান সেনাদল অধিকার করেছে তাবৎ লেখনী, ইতিহাস
দহনকালে নির্বিচার ছাই হবে সব নিঃশেষে; গৃহধর্ম-কৃষি-শিল্প অথবা সন্ন্যাস।


।। প্রত্যক্ষ সংগ্রাম ।।
============
জ্ঞানতঃ থাকি জতুগৃহে লীন
কোনোদিন হিসেব মিলে যাবে
এই আশায় দুঃসহ উত্তাপে নিরবধি
ঝলসে যেতে থাকে ক্রমে ভবিষ্যৎঅভাগার দৃষ্টিপাতে শুকোয় সাগর নদী
ভৌতিক অতীতের ছবি বর্তমান
কারা শান দেয় অস্ত্রশস্ত্রে দিবারাত
উত্থিত সমাধি থেকে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম
আমরা জেনেছি এসব কথা কানাঘুষোয়
অন্যরা জানে কারু-ইতিহাসে
বিনাশকল্পে গুপ্তবাস ছদ্ম মুক্তিকাম
নিশুতি বিজ্ঞপ্তি সাঁটে বিনিদ্র ভাম ।






।। পঁচিশে বৈশাখ ।।
============
নক্ষত্রের মৃদু আলোয় যেন অকস্মাৎ
শুনি ছায়ানটে লম্বিত সুর সমলয়
উপবনে থেমে যায় সম্মোহিত বায়ূ
আবহ ছন্দাক্রান্ত নিমেষে তন্ময়


কখনো বুঝি সে আহ্বান, গভীর অতল
শুভাশিসে ঝরে পড়ে নবধারাজল
উপশিরা, লসিকায় সম্পৃক্ত বীণাধ্বনি
গৃহহারা তবু জানি পেয়েছি সকল

মানুষ, কখনো বুঝে নিতে পারো
জর্জরিত মৃতপ্রায় নিয়তি-প্রহার
পূর্ণপ্রাণে জ্বালিয়েছো দীপশিখা
নিভে গেছে ঝড়ে বার বার

কোথাও রাখো নি হিসেব তমসুকে
পন্থাচ্যূত পরিণাম রক্ষিত-সমাজ
আহত হৃদয় চেনে পরিত্রাণ-পথ
পুরমাঝে আজ এসো হে মহারাজ।

।। হে পথিকবর ।।
==========
কোথাও আর দাঁড়িও না হে পথিকবর, যাও নিজ কাজে; নিদেনপক্ষে গৃহপানে
শেষ তৈলবিন্দুটিও দিনশেষে সাবধানে ঢেলে নিও ব্যক্তিগত সুচারু চরকায়
বিপ্লবের কোনো তাড়াহুড়ো নেই আজ; ছিলও না কোনোকালে কোনোদিন
মাঝে মাঝে চাট্টি ভাত, অনন্ত গ্যাঞ্জাম; এভাবেই একে একে দিন কেটে যায়
বেনোজলে ভেসে আসা অযুত শ্রমজীব, বাহুল্য সংলাপে ক্ষ্যাপা আধি-ব্যাধি-জরা
ক্ষুৎপিপাসা উন্মাদ ততোধিক ক্ষোভে, দেখি নে মুখটি আজ কোনো আয়নায়
ধারহীন হয়ে গেছে বহু নিপাতন ব্যবহারে; লজ্জিত, শীর্ণকায়, তামাদি অভিযোগ
হে পথিকবর, বলো দেখি আজ; তোমারও কি আমাদেরই মতো ক্ষিদে, তেষ্টা পায়?


।। রসদ ।।
=======
সার, জমি ছিল, ছিল বিশ্বাসী বান্ধব পুরাতন
কথা ছিল, ছিল গান আরও ছিল পড়শী সুজন
ছিল অনাহার, অনটন; কিছু বিশুদ্ধ বাতাস
অনুষ্টুপ উৎসবে শুভ্র আমোদ; শরতের কাশ
ছিল কাব্যমাখা প্রেমব্যথা, ততোধিক ব্যাপ্ত মন
জুড়ে ছিল স্বস্তির ছায়া, স্মিতমুখে প্রসন্ন কানন
জগদ্দল হয়ে বসে ছিল ভুবন ঘৃণার উৎসমুখে
দুস্তর পথ পাড়ি দিয়ে গেছি এ অনন্ত ত্রিলোকে
ইতিহাস হয়েছে সব, অস্থিমজ্জায় লক্ষ দূর্বোঘাস
সর্বনাশেও আমেজ প্রবল অগ্নিগর্ভের পৌষমাস
নতুন তরঙ্গ চেনা নয় তবু প্রবাসগন্ধে আকুল হই
জীবন জানে কি অন্য রসদ মৃত্যুবিহীন আশা বই?






।। ভবিষ্য-সনদ ।।
============

বঞ্চনা বা বর্ণভেদ নিয়ে এখন মনে হয় ভালো আছি বেশ
সুখাতীত অভ্যাসে রূপটান থেকে প্রেয় ছিন্নবস্ত্র আর এলোকেশ

ঝরাপাতার হাত ধরে একদিন পরিচয় পর্ণমোচী বৃক্ষের সাথে
সখ্য হয়ে গেছে তারপর আঘাত, প্রীতি, ব্যাঘাত আর সংঘাতে

স্বপ্নের ভূমিকাজোড়া ঘরবাড়ী, পোড়ো বসতি টানে বারম্বার
আরণ্যক সম্ভাবনাময় বিচিত্রঋতু, সহস্র উদ্গমস্রোতে সঙ্গীত অপার

শুভ লক্ষণ ছিল আপাদমস্তক, পূর্ণ প্রতিশ্রুতি সুষুপ্ত নীলিমায়
বাতিঘরের আলোয় সতর্ক যাত্রাপথ; এড়িয়ে সে দানব অতিকায়

জয়ধ্বনি ওঠে, বাজে করতাল; অবাধ উল্লাসে মাতে সভাসদ
এভাবেই বিশদ লেখা ললাটলিপি, অমৃতের পুত্রাদির ভবিষ্য-সনদ।


।। অনন্তশয়ন ।।
==========

মূলতঃ সে মানব ছিল জন্মসূত্রে, বিবর্তিত ব্যবহারজীবি এখন
তবু কখনো অস্ফূট উচ্চারে কানে আসে মহাজগতের আবাহন
সুধীমস্তকে চিড় অহর্নিশ উচ্চাবচ পথে সমাধানহীন কূটচিন্তন
মাংসখন্ড চায় বুভুক্ষু শ্বাপদ; ব্রহ্মাণ্ড তোলপাড়, মরীয়া মন্থন
ধ্বনি ওঠে মগ্ন প্রভাত হতে জল-স্থল-অন্তরীক্ষ জুড়ে আয়োজন
সে নয় কখনো মৃত্যুমুখী দূত; আসন্ন রণ তবু ত্যক্ত প্রহরণ
লোকালয় থেকে দূরে মৌন মিছিল, উজ্জীবিত এক প্রশান্ত যাপন
হৃদয় আলোড়িত অব্যক্ত ঢেউয়ে নিশ্চল থেকে যায় অনন্তশয়ন।




।। পারাপারশেষে ।।

==============

পেরিয়েছো দুস্তর পথ বন্ধনসূত্র ছেঁড়া হাহাকারে
শোভিত অঙ্গে দোলে বুঝি মৃত্যুজিৎ কবচ কুণ্ডল
নিঃশেষে উড়ে যাবে ডানা মেলে উদ্বায়ী সংসার
কামনাকন্টক ঘেরা কারাগারে ওঠে তরঙ্গ প্রবল

কতজন্ম পর যেন এসেছি বৃক্ষমূলে পারাপারশেষে
নিদাঘনিভৃতিতে সম্পূর্ণ থেমে গেছে অস্থির কূজন
এঁকে রেখো সমূহ নিষিক্ত কল্পনা গতাগ্নি অঙ্গারে
অন্যথা এ মাননবজীবন অনুগতি শুধু চর্বিতচর্বন।


।। ফেউ ।।
========
অভিষেকক্ষণ থেকে ধুলো জমেছে প্রতিকৃতিতে
জয়ধ্বনির সম্মোহনী মায়ায় দেখে নি তা কেউ
রাতভর গুঞ্জরণ যেন স্বয়ংসিদ্ধ নিদ্রাহারা গানে
ফিরে গেছে ব্যর্থ শিকারী আর সব্যসাচী ফেউ।


।। আশা ।।

========


ভুলি নি কিছুই এযাবৎ, চিলেকুঠুরীতে আছে মহাফেজ
সাদাকালো বা রঙীন সব পুরোনো চিত্রমালা ক্রমান্বয়
রামধনুর রঙে ভাসে অচেনা ক্রোধভরা বিচিত্র আক্রোশ
বলি নিরুচ্চারে, স্থির হও; বয়ে যাক নিজমনে দুঃসময়
ফলবতী হও নিসর্গ অনুসারী; গুল্ম, বৃক্ষের উত্তরসূরী
শুষে নাও একে একে বসন্তবাহার কিম্বা মৃদু হেমন্তগীতি
বিমূর্ত প্রসাদগুণে বেজে যাবে ঋতুসম্ভাষণ, সুরসমলয়
অনুরণনে ফিরে পাবো সে অতীত, সহজ কোমল সম্প্রীতি



।। মগজের দায় ।।

===========

সময় ঘোরালো বটে; অদম্য সাহস চাই পরাজয়েও
যেহেতু দুরূহ কণ্টকময় পথ অপসারী; পলায়নপর
শ্মশানবৈরাগ্য টুটে গরম ভাতের আদিম জাদুগন্ধে
শ্রমজীবি পবিত্র জীবন; বহ্বারম্ভে অপচিত অষ্টপ্রহর

বিচিত্র আমোদ মৃদু সৌরভে, উল্টোমুখে ভেলা ভাসমান
যথেচ্ছ হাঁটি প্রশস্ত পথে; ভাবি আজ যাবো মোহনায়
দেশান্তরী বিবেকে সর্বস্ব দ্রব, পাপস্পৃষ্ট বেদান্তিক জ্ঞান
দিনরাত প্রশ্ন অঙ্কুরিত; বহনক্ষম নয় এ মগজের দায়।


। জয়টীকা অর্গলে ।।

=============

প্রাতঃস্নান সাঙ্গ হলে তিলক আঁকো যজনযাজনে
পদপথ থেকে সন্তর্পণে করো কিছু রেণু আহরণ
দগ্ধ কাননে ঘুরেফিরে আসে প্রজাপতি ঘরপোড়া
চিতার আগুনে কে’ই বা রাঁধে বিচিত্র ব্যঞ্জন!

বিষাদসমৃদ্ধি সমন্বিত এ সচ্ছল বৌদ্ধিক জীবন
প্রত্যর্পণ নয় কোনো্রূপ তরল আমোদে সুলভ
পরাভূত অর্গলে এঁকেছি আজ দ্বিধাহীন জয়টীকা
সূর্যোদয় বিনা ছিল সবই সুকঠিন, প্রায় অসম্ভব।



।। হাসছে মানুষ ।।
============
হাসছে মানুষ হাসছে মাটি, অশ্বডিম্বে আমের আঁটি
হাসছে তরুণ লাগছে করুণ, হাসির শেষে দাঁতকপাটি
হাসছে মাকু গুপ্ত চাকু জোটের অঙ্কে গুম্ফে তেল
চাড্ডি হাসে গোপন ত্রাসে, হে মাদারি দেখাও খেল
শিল্প হাসে অল্পবাসে, দানব করে অট্টহাস
তন্ত্রমতে দুষ্টক্ষতে কাল সকালেই গুমোর ফাঁস
ভেঙে আগল সেয়ান পাগল হাস্যমুখে দিচ্ছে ডাক
আয় রে তোরা, ননীচোরা মৎস্য নীচে উর্দ্ধে শাক
ছদ্মবেশে পূণ্যদেশে সুদিন-স্বপ্ন বিকোয় বেশ
মুড়োল্যাজা খাবে রাজা, প্রজা্র এঁটো অবশেষ
তবুও হাসি রাশি রাশি বলির পাঁঠা লম্ফমান
সাত সকালে নিজ চাতালে পিঠ চুলকোয় ভগবান
লাগছে ভালো এ জমকালো শান্তিশ্মশান পাঠশালায়
হাসির ফাঁকে ডাকছে কাক-এ হচ্ছে ছায়া বিশালকায়
নাক বরাবর ভাই বেরাদর ছুটছি সবাই গড্ডলে
হাসছে হৃদি হাসছে দিদি মুখ লুকিয়ে অঞ্চলে।


।। জাতীয় চাচা ।।
===========

শুন ভ্রাতা ভগ্নি, জঠরের এ অগ্নি
প্রশমিতে চাও যদি কর আজই লগ্নি

হও কেন খাপ্পা, টেনে মারো ছাপ্পা
তুমি তো হে সাক্ষাৎ গণপতি বাপ্পা

ধরিলে বৃক্ষে ফল, টম-ডিক-হ্যারি’দল
পাইবে উচিৎ ভাগ, খসে যাবে বল্কল

চাটুরে মাগিয়া মাফ, মারিলে চুলায় ঝাঁপ
আপনি বাঁচিলে পরে খুঁজিও কোথায় বাপ

ঘোর এই কলিকালে বাক্যের মায়াজালে
ফাঁসিয়া মরিবে ধীরে তান্ত্রিক করবালে

পূজিবে শহীদ বলি, দিয়া বিল্বপত্রাঞ্জলী
স্থাপন করিবে বেদী খুঁজে সব অলিগলি

ঘাবড়াও কেন বাছা? মারো কষে কোঁচাকাছা
দিয়া গেছে অধিকার তোমারই জাতীয় চাচা।


।। নির্ঘোষ ।।
====================================
আর কোনো ভদ্রতা নয়, ত্যজ্য আজ মিছে আপ্যায়ণ
সশরীরে কোন মোক্ষ পেলে, সার্থক এ নশ্বর জীবন?


কামিনী-কাঞ্চনের নেশা ছেড়ে ঘোর সাধনায় লেখো বাক্য দুটি
জারিত হোক অন্তর্গত বিকার, দূরে যাক আগুনে বিছুটি।

তাঁর হাতে সব চাবিকাঠি, ধর্মের প্রবল বাহুবল
তছনছ অকালের বৃষ্টিতে, বাঁচাও তবে কৃষির ফসল।

ভিজেছিল সরল কিছু চিঁড়ে, মধুমাখা ছদ্ম কথায়
ভাত দেখি ফুটছে না তাতে; হায়, তবে কি হবে উপায়?

হয়তো বা সয়ে নেবো সব, স্তোকবাক্য দাও ঝেড়ে ফেলে
তবু যদি রয়ে যায় কিছু লাজ, ঢেকে দিও শুষ্ক বল্কলে।




১/

==

‘ম’কারের মায়া

ভুলায় মূহুর্তে নরে

পুত্র, কন্যা, জায়া।


২/

==

নাহি জানে পথ

দুর্বার গতিতে তবু

ধাবমান রথ।


৩/

==

স্বর্গীয় সুধা

হারায় মহিমা পেলে

রাক্ষুসে ক্ষুধা।


৪/

==

পরমাণু অস্ত্রে

মরিবেই সভ্যতা

অন্নে ও বস্ত্রে।






দায়

=============




এভাবে হতে পারে না

এভাবে নয় সমাধান

কোনো স্থির অব্যয়

শুধু মনে রাখা ভালো

ঠিক জন্মের ক্ষণেই

চেপেছে কাঁধে দায়

সৃষ্টিকে টিঁকিয়ে রাখার

জ্বেলে মৃত্যুঞ্জয় আলো।



১/

==

যার লেখা বুঝে ফ্যালো কবিটি সে সস্তার

নেই সোনা মগজেতে ভাঁড়ারটি দস্তার!!


২/
==
গল্পের গরু গাছে চড়ে হরদম
গাধারাও এই কাজে অতীব সক্ষম!

৩/
==
দাবী নিয়ে খাবি খায় বোকা জনগণ
চাবি নিয়ে ভাবী রাজা চলে বৃন্দাবন।

৪/
==
খেতে মজা জিবেগজা মধুমেহ বিনা
নয় সোজা দোষ খোঁজা, নরদেহ কিনা!




খণ্ডিত
=================
‘অন্ধকারই তবে
শেষমেষ উজ্জ্বল হবে’-
এই ভেবে আছো যারা বেশ
আস্তাকুঁড়ের অস্পৃশ্য অবশেষ।


জল্লাদের হাতে
ধর্মের নানা অজুহাতে
নরবধে খুশী যার মন
তৈরী থেকো, আসছে মরণ।

শঙ্কার এ দেশে
ন্যায় হলে শুধু একপেশে
উল্লাসে ফেটে পড়ে যারা
খুলি বুঝি পুরীষেই ভরা।

মসী ছেড়ে অসি
নিয়ে শুধু দর কষাকষি
ভাবে যারা পেয়ে গেছে জিত
এক মাঘে যায় নাকো শীত।

ধরে মহতের বেশ
শিকেয় তুলেছে আজ দেশ
সুখের শরিক শুধু তারা
বাকীরা কর দুঃখের বাটোয়ারা!

ইতিহাস ও গুল
নিয়ে বেশ হয়ে মশগুল
আছে যারা বেফিক্‌র্‌ উদাস
দেখে যাবে অগুন্তি লাশ।




১/
==
রাতকানা কমরেড দিনে দেখে বেশী
সুযোগ সুবিধে বুঝে ফোলায় সে পেশী।


২/
==
প্রতারক যাযাবর তবু অতি স্নেহময়
আসল তত্ব হল বিষেতেই বিষক্ষয়।

৩/
==
গাছেতে ধরে না টাকা খনিতে না পায়
ধরিতে জানিলে ধর উড়িছে হাওয়ায়!!

৪/
==
প্রাণহরা সদালাপে ভরে নাও পেট
এর বেশী চাও যদি মাথাখানি হেট।




।। মায়ানগর ।।
=============
এবার উত্থাপন হোক
অপ্রিয় যত কথা
এড়িয়ে যাওয়া প্রসঙ্গ কিছু
নিপুণ কথকতা।


প্রতারণার নিখাদ আয়োজন
চতুর আবাহনে
দ্বিধায় জড়ায় শুষ্ক জীবন
অজ্ঞান সংগোপনে।

ব্যথাতুর নিঃসঙ্গ প্রাণে জাগে
নিরন্তর লহর
মিথ্যের চাদরে আপাদ ঢেকে
ঘুমোয় মায়ানগর।




১/
==
পাঁজরের চাবি
ছাড়িয়া কাহার হাতে
খাইতেছ খাবি!


২/
==
‘পরহিত’ চাও?
বাণীতে ভাসাও দেশ
আখের গোছাও!!

৩/
==
রকমারী ছন্দে
গালি’র বরিষে ধরা
ভরে পূতিগন্ধে।

৪/
==
মুক্ত বাজার
দেখিয়া মুচকি হাসে
সিক্ত মার্জার।




।। সাংখ্যিক সত্য ।।
=================
এত সব চুলচেরা কৃষি
তুলনা আর রেষারেষি
নির্ঘাত সত্য বিস্মরণ।


তুচ্ছ লোকলাজে
বহ্বারম্ভ শত শত কাজে
জাগরণের ফাঁকা বিস্ফোরণ।

আত্মঘাতের ফাঁদ
লক্ষ্যহীন ভ্রান্ত বিবাদ
শমনের গাঢ় আলিঙ্গন।

যাও ঘানি টেনে
কায়মনে বিধাতাকে মেনে
মৃতদেহ বয়ে আজীবন।

সংখ্যায় সত্যের বাস
প্রতিবাদে নিছক বিনাশ
খুনী গড়ে ধর্মের সদন।




১/
==
চারিশত বিশ
ধারা অগতির গতি
বাঁচার হদিস।


২/
==
‘বিজ্ঞে’র সঙ্গে
তর্কের চেয়ে লাভ
আশু রণভঙ্গে!

৩/
==
‘বোধি’লাভ হলে
মৎস্য ভাজিতে শিখে
মৎস্যেরই তেলে।

৪/
==
কয়খানা like
পাইলে সঠিক বুঝি
Status-এর hike?




পরিত্যক্ত বন্দরে
====================
পরিত্যক্ত বন্দরে ইতিউতি
ঘুরে বেড়ায় গুটিকয় প্রাজ্ঞ ইঁদুর
এত আয়োজন অথচ জনহীন
স্তব্ধতায় কী নিদারুণ ক্ষুন্নিবৃত্তি
মুছে গেছে সকলি যা ছিল বন্ধুর।


বৈচিত্র্যের কথা বলো না কখনো
বলো ‘সব লাল হো জায়েগা’ সজোরে
লক্ষ লোকের পদাতিক সেনা
কুচকাওয়াজে কাঁপায় দিগ্বিদিক
অন্ধযুগের অন্তিম প্রহরে।

সদ্ভাবনার দুয়েকটি কথা
অবশিষ্ট তবু থেকে যায় অন্তরে
‘দেবতার গ্রাস’ থেকে যদি ফিরি
কোনোদিন জ্যান্ত সশরীরে একা
পরিত্যক্ত সেই মৌন বন্দরে।




স-ব-ত-র-ল
========
ভূত ভবনে
জোর কদমে
চলছে কাজ।
ডাক শমনে
ছাড় শরমে
পড়বে বাজ।
অল্প কথায়
দৃশ্য যখন
ফুটছে না।
ছদ্ম ব্যথায়
মাথা এখন
কুটছে না।
হাসছে লোকে
ডাকটি ছেড়ে
শুনছো কি!
নেশার ঝোঁকে
ধরছো তেড়ে
ঢালছো ঘি!
ছদ্ম রাগে
উটকপালে
দিচ্ছে দোষ।
হাবা বোকা
এ ফাঁকতালে
নন্দ ঘোষ!




কৃচ্ছ্রতার কাছে
==================
নিরম্বু উপবাসে রত এতকাল
কি চাও কৃচ্ছ্রতার কাছে
অভিমানের সার্থক উদযাপন
কিংবা সিদ্ধির সফল পাঠে
শেষ হবে এই অনন্ত যাত্রা
মৌন সমদলের সাথে পায়ে পায়ে
উচ্চাশার উদ্ধত নিশান নিশ্চুপ
ঘুমিয়ে রয় তেপান্তরের মাঠে।




১/
==
তালা আর চাবি
নাই যার সে বুঝি
বড়ই অভাবী!


২/
==
মোহ আর মায়া,
ঢাকিতে সফল আজ
লাজ, মান, হায়া।

৩/
==
রসে আর বশে
না থাকিলে জীবতারা
আপনিই খসে।

৪/
==
হৃষ্টের পুষ্টি
সাধন হইবে কারো
না মারিয়া গুষ্টি।




বেহাগ
==================
সংবদ্ধ আলাপের আমন্ত্রণে
জেগে ওঠা ঘুমন্ত বেহাগের
দুটি মায়াময় মধ্যম ছুঁয়ে ফেলে
জগতের সমূহ বিষাদ;
অনন্তর কিছু স্বপ্নচারী ছন্দে
জোড় আর ঝালা’র সহজ
সঞ্চারে হয়তো মুছে যাবে
সঙ্গীতের কিছু অপবাদ।




১/
==
মারিয়াছে ‘ট্যাগ;
না করিলে ‘লাইক’ বুঝি
করিবেই ত্যাগ!




২/
==
হনু অচেতন
লভিয়া মূলে, সুদে
পাপের বেতন।

৩/
==
অশেষ যতন
বিনাও চিনিতে পারে
রতনে রতন।

৪/
==
‘সকরুণ বেণু’
শুনিলে ষণ্ড ধায়
ধরিবারে ধেনু!




১/
===
দুষ্টের হাতে ছেড়ে তাবৎ সংসার
কাপুরুষ মানবতা হয়েছে ফেরার।


২/
===
বিষেভরা রাজনীতি অনুপান ধরম
ভাষার ফোড়নে তা হলো বেশরম।

৩/
===
বাক্যের জালে ফেঁসে ধর্মের ব্যাখ্যা
কানের পোকাটি কয় ‘দাও আজ রক্ষা’!

৪/
===
ভূত-প্রেত-দানো মিলে করে সেমিনার
সংকল্প রামনাম ব্যাপক প্রচার।

৫/
===
শোনো জ্ঞানী, ভরপুর বাণীময় সুধা
মেটাতে পারে কি বলো একপেট ক্ষুধা!




আশা
===================
আর কত থাকো অবনত
শিরে, হে মাতা জন্মদায়িনী
আকণ্ঠ তৃষ্ণা বুকে নিয়ে
সীমানায় ধুঁকে বুভুক্ষু সন্তান
সঙ্গীন উঁচু করে রক্ষীবাহিনী
সমাধা করে দিতে একেবারে
কত দশকের হিসাব কিতাব
ক্ষয়ে যায় যদি তাতে মানবতা
কিংবা কোনো বাক্য সদর্থক
মূখ্য নয় বিচার লাভালাভ।
বিষাক্ত বায়ূর নির্ভুল আবেশেও
একবার যেন জেগে ওঠে আশা
তাপিত হৃদয় জুড়ে মৃদু সুরে
কেউ শুধায় ‘কোথায় পরাজিত
বলো, মাতৃজাত সহজ ভালোবাসা’!




১/
===
নিরীহের রক্তে
তৃপ্তি অতুল লভে
শক্তের ভক্তে।




২/
===
মানবতার উত্থান
হতে বলি চাই বলো
কত তাজা প্রাণ?

৩/
===
বাজারের দরে
বিকায় সকলি যদি
বুঝে পরষ্পরে।

৪/
===
বায়ূ আর জল
দূষণে বিপুল লাভ
পালাটি বদল।







ঝড়শেষে
=====================
শুধু একটি বাক্যের মুখ চেয়ে
কেটে যায় অকিঞ্চিৎ আরেকটি দিন
বুঝি আসে বার্তা সফল সন্ধির
হাত ধরে প্রকৃত প্রত্যয়ের বিনয়ে।


নির্ণিমেষ চেয়ে থাকি আকাশে
আকীর্ণ ফলকের লেখা পড়ে নিতে
ঝাপসা চোখে পড়ন্ত আলোর আভায়
মিশে যাওয়ার আগে সম্পৃক্ত বাতাসে।

ঝড়শেষে সবকিছুই নিশ্চিত উদাস
যেন ভুল নেই কিছু কোনোখানে
অপস্মার ব্যাধির জালে রুদ্ধ জগৎ
তমসার উপেক্ষায় যত উপহাস।




১/
==
প্রসাদের কণা
পেলে ক্রমে হ্রাস পায়
দুর্বৃত্তির ঘৃণা।


২/
==
হাতেনাতে ফল
পাইলে বুঝিবে চালু
ধর্মের কল।

৩/
==
রাজকীয় সাজে
বচন অমৃত হয়
বকিলেও বাজে।

৪/
==
ফেউ আর ব্যাঘ্র
আজকাল মিতে হতে
অতিশয় ব্যগ্র!




১/
==
বাজারে অচল এবে নীতিকথা যত
তামাদি গ্রন্থে তাহা পাও অন্ততঃ!


২/
==
পেট ভরি খ্যাট শেষে দিয়া ঘুম টানা
ফেসবুকে ফলাইও দিব্য জ্ঞানখানা।

৩/
==
কারনটি যাই হোক কাটাকাটি চাই
জীবন আলুনি বিনা উত্তম লড়াই!

৪/
==
মুঠিতে লইয়া ফিরি মূষিকের প্রাণ
সুর ভাঁজি তারই মাঝে করি কিছু গান।




১/
==
শুন হে মশাই
স্বর্গের কাণ্ডারী আমি
নহিকো কশাই!


২/
==
চতুরের ‘ন্যায়’
নামাবলী রূপে দেহে
শুধু শোভা পায়।

৩/
==
বঙ্গের ভাণ্ডার
খুঁজিলে পাইবে দেখা
অশ্বের আণ্ডা’র!

৪/
==
বল বীর
এক ঘায়ে ফেলিয়াছ
কয়খানা শির!




ভালো
=========================
লেখা ভালো কবিতা খাওয়া ভালো পেঁপে
জ্বর ভালো ম্যালেরিয়া আসে কেঁপে কেঁপে ।।
করা ভালো রাজনীতি ধরা ভালো নেতা
মরা ভালো অনটনে ঝরা ভালো পাতা ।।
বলা ভালো অকথ্য কলা ভালো ছবি
মলা ভালো কর্ণটি জ্বলা ভালো 'হবি' ।।
তাজা ভালো তরকারী সাজা ভালো ফাঁসি
রাজা ভালো গুলিখোর খাজা ভালো বাসি ।।
কাজ ভালো সরকারী আজ ভালো দিন
সাজ ভালো প্রগতির লাজ ভালো চিন ।।
হওয়া ভালো পায়াভারী রওয়া ভালো পিছে
সওয়া ভালো অপবাদ কওয়া ভালো মিছে ।।
ধরা ভালো সরা হলে হরা ভালো মন
পরা ভালো রাজবেশ ধরা ভালো পণ ।।
পড়া ভালো নীতিমালা চড়া ভালো গাছ
কড়া ভালো গুরুজন নড়া ভালো মাছ।।
থাকা ভালো সংসারে চাকা ভালো ঘোরা
আঁকা ভালো পোর্ট্রেট টাকা ভালো কোরা।।
লেখা ভালো হাবিজাবি দেখা ভালো বাঁকা
শেখা ভালো জালিয়াতি টেঁকা ভালো একা।।
আজ থাক এইটুকু বাকী হবে পরে
বদহজম হলে পরে ক্ষমা কোরো মোরে।।




যাত্রা
================
নিরঙ্কুশ পেরিয়ে এসে
একে একে অব্যর্থ দ্রাঘিমা
বাধাহীন উন্মুক্ত চারণভূমিতে
নিষ্ক্রমণেরও অবারিত দ্বার
খুঁজে খুঁজে পরাহত সংযমে
অবরোধ মুক্ত হলে স্থায়ী
উত্তরণের দিশা খুঁজে নিতে
চাই আজ ইপ্সিত সারাৎসার।




১/
==
জীবিকাটি বিজ্ঞান, ভালোবাসা ‘ধর্ম’
পদলেহী শয়তান অতি পুরু চর্ম।




২/
==
বিশ্বাসে ছেড়ে দিয়ে জীবনের দায়
মরীচিকা দর্শনে তৃষ্ণা জুড়ায়!

৩/
==
প্রাণটিকে বাজী ধরে ‘জনমের শোধ’
মেটাতে অধীর আজ শত নির্বোধ।

৪/
==
‘মিডিয়া’ কাহারে কয় বুঝিলাম আজ
কায়মনে খই ভাজা তাহাদের কাজ!




১/
==
নাহি অধিকার
বাঁচিতে, শিখনি যদি
করিতে শিকার।


২/
==
নরমের যমে
দিতে হবে পাদ্য অর্ঘ্য
নবীন উদ্যমে।

৩/
==
জন্মের পাপ
কাহারে না দেয় বল
অমেয় সন্তাপ!

৪/
==
শক্তি ও ভক্তি
‘সার্থক’ মিশ্রণে ফল
নিখাদ বিরক্তি!




১/
==
নক্ষত্র পতনে ফাটে ধরণীর বুক
অলীক উল্লাসে মাতে যত উজবুক।


২/
==
দেশপ্রেম ধরে যদি মাদকের রূপ
মণ্ডুকের যূথে দেখি ভরে যায় কূপ!

৩/
==
রাঘব বোয়াল ফেঁসে অচিন চড়ায়
কোথাকার জল দেখি কোথায় গড়ায়!

৪/
==
অকারণে ছাড়ো কেন ধনুকেতে টঙ্কার
ভাবো বুঝি হয়ে গেছ মহারাজা লঙ্কার!




১/
==
গুচ্ছের মিছে কথা পুচ্ছের নর্তন
উচ্ছের তেতো আর তুচ্ছের গর্জন।


২/
==
কলরবে খল যবে করে গাল মন্দ
অবকাশে শব হাসে ছেড়ে তাল ছন্দ।

৩/
==
বেনোজলে ধেনো গিলে কারা আসে ভেসে
ঠেসে ধরে পিষে মারে শুধু ভালোবেসে!

৪/
==
প্রাণভরে দান করে জ্বালাময়ী বাণী
কান ধরে মান হরে কালজয়ী জ্ঞানী।




১/
==
যতই ছড়াও কথার ফুলঝুরি
দক্ষ হাতে্র ফাঁপা জারিজুরি
স্পষ্ট তবে জেনে রাখো মিতে
বৃক্ষ শুধুই ‘ফলেন পরিচীয়তে’।


২/
==
অমোঘ জেনেছি মৃত্যু তবুও
কে গেয়েছে তার জয়গান
জীবনের যাঁতাটিকেই ভালোবেসে
পেয়েছি সুখ তিল পরিমাণ।

৩/
==
এত তাড়া কিসের হে হরিদাস
ছেড়ে যেতে অস্থায়ী এ বসবাস
পেয়েছো কি কোনো প্রতিশ্রুতি
নিঃশর্ত সমর্পণের গালভরা স্তুতি?




লক্ষ্যভেদ
====================
আহত পারাবতের রক্তাক্ত ডানায়
শান্তি ভরে আছে কানায় কানায়।


আসমুদ্র হিমাচল কাঁপিয়ে গর্জন
দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটি হয়েছে অর্জন।

বাকহারা পেশীহীন কালের গহ্বরে
কান পেতে শোনো কথা পাতার মর্মরে।

শ্বাসরোধী প্রদূষণে অধিকারহীন
শেষকথা হবে জেনো অতীব সঙ্গীন।

লক্ষ নুড়ি খুঁজে ফিরি পাথরের প্রাণ
মনে হয় আশা আছে পাবো প্রতিদান।

গঞ্জনায় কবে ভয় পায় দশানন
সজ্জিত হাতিয়ারে অবাধ লাঞ্ছন।

তবু কেউ ছেড়ো নাকো সূচ্যগ্র মেদিনী
বন্ধ চোখেও আমরা কি লক্ষ্যটি ভেদি নি?




১/
==
মুখে লাজ সাথে পেটে ক্ষুধাটি বিস্তর
কিলিয়ে পাকাবো আজ নিরেট প্রস্তর!


২/
==
ধনাঢ্য ভিখারী যদি আরো খেতে চায়
পেটটি ফাটানো ছাড়া আর কী উপায়!

৩/
==
রসেভরা মগজেতে রাতারাতি প্রতিভার
আগমনে বুঝি আজ ‘তুমি কার কে তোমার’!

৪/
==
জিলাপিতন্ত্রে সহজ কথাটি জটিল করার ব্রত
ভাষা জননীর বক্ষে হানে আরোগ্যাতীত ক্ষত!




আশা
====
প্রকৃত অবক্ষয়ের মহাকায়
রাক্ষস ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনে
সর্বনাশের অমোঘ জাল ঠিক
তখনি কোথাও অসম প্রতিস্পর্ধায়
অঙ্কুরিত একটি বীজ সবিনয়ে
ঠুকে মহাযুদ্ধের ত্রিমাত্রিক তাল
সুনিশ্চিত সিদ্ধান্তে কঠোর
প্রত্যায়িত স্বচ্ছ অভ্যুদয়ে
ব্যর্থ বিলাসের আত্মঘাত
আহত বিশ্বাসের ক্ষতস্থান
ভরে ওঠে ক্রমে, জাগে বুঝি
প্রতীক্ষার নতুন প্রভাত।




১/
==
বেপরোয়া খেউড়ে ধুইয়ে দে কেউ রে
যত সব সুশীলতা সাথে কলা-কৃষ্টি
ছিপিঠুসে কর্ণে গিরগিটি বর্ণে
কানাডোম বাঁশবনে এলে শুভদৃষ্টি।




২/
==
তপ্ত চাটুতে বসি ভাবে জনগণ
এমত উত্তাপে আর বাঁচি কতক্ষণ
অতঃপর কৈলা শলা যুক্তি বিলক্ষণ
জ্বলন্ত অগ্নিতে দিলা হঠাৎ লম্ফন।

৩/
==
কভু ছাড়ি হুঙ্কার কভু করি গড়
কভু বা হজম করি বেমালুম চড়
আঁক কষি লাভক্ষতি করিয়া নির্ণয়
সুবিধাবাদের সনে করিনু প্রণয় !!




ধাঁধা
====
মরূদ্যান বলে এতকাল
জেনেছি যাকে আজ তাকেই
বল ভয়াল কৃষ্ণগহ্বর
রসিকতা বলে এড়িয়ে যেতে
চাই এই দুরূহ শব্দশৃঙ্খল
পথভোলানো কুহক লহর
আকাশ জুড়ে ধেয়ে আসা
এক অতিকায় খণ্ডমেঘ জুড়ে
লেখা বৃষ্টির আগাম খবর
মৃত্তিকায় জেগে ওঠে প্রাণ
অগ্রিম প্রলোভনে রক্তস্রোত
অনুভবে নিষাদ প্রবর।




১/
==
কমিয়াছে লোকলাজ, স্বাভিমান, ডর
বাড়িয়াছে বেপরোয়া বেহায়ার দর।




২/
==
চাষবাসে ভারী লাজ সততায় ভয়
শুভকাজে সততই দেখি পরাজয়।

৩/
==
স্যাকরাটি ঠুকঠাক ঘা দেয় অবিরাম
কামারের আপাততঃ মনে হয় বিধি বাম।

৪/
==
ভরপেট খাওয়া পেলে পিঠে সই কিল
এভাবেই বেঁচে সুখ পাই অনাবিল!!




সে আর ছায়া
========
সে বসে থাকে চুপচাপ, স্থানু
ছায়াটি পাপের কাছে নতজানু
সে শুয়ে থাকে গুটিসুটি মেরে
ছায়াটি বেড়ায় সদরে অন্দরে
সে যখন সুরের ছত্রছায়ায়
ছায়াটি তখন মত্ত উদ্দামতায়
সে খোঁজে গহন একটি মায়া
ছায়াটি চায় শুষ্ক ধুলোটে হাওয়া
সে যদি চায় নিভাঁজ শুদ্ধ আড়াল
ছায়াটি তখন খাঁটি তপস্বী বেড়াল
ব্যাকুল সে খোঁজে যদি ঈশ্বরের হাত
ছায়াটি শানিয়ে চলে শাঁখের করাত
সে চায় বৃক্ষ, মাতে নিরন্তর রোপনে
ছায়াটি তপ্ত চাটু লুকোয় গোপনে
এত বিসম্বাদে ভরা বাহির ও অন্দর
তবুও স্বপ্নে ভাসে একটি যুগান্তর।




কেয়ামৎ
======
কেউ এসে যাবে একদিন
বিস্তৃত হিসেব বুঝে নিতে
যাযাবরী ঝুলিটিও ঝেড়েঝুড়ে
মেলাবেই কানাকড়ি সমন্বিতে।
ক’টি কথা বাকী রয়ে যাবে
এরপরও আকাশে, বাতাসে,
ব্যস্ততায় ভরা রুক্ষ রাজপথে,
হয়তো বা কোনো মৃদু নিঃশ্বাসে।
‘পারাণির কড়ি’ হয়ে স্থির এককোণে
চক্রবৃদ্ধি সুদ যোগে বাড়বে না আর
মুদ্রার স্ফীতিতে যদি হয় লঘুতর
বুঝে নেবো এই ছিল মনে বিধাতার।




১/
==
ভাবের ঘরেতে চুরি
নিপাতনে বাহাদুরী!
দৈবাৎ ছিঁড়িলে শিকা
তারে মানি জয়টীকা।




২/
==
কুম্ভের কর্ণে বিচিত্র বর্ণে
ঢেলে যাও সুধা বারোমাস।
পাশ ফিরে কুম্ভ যেমতি ‘মোগাম্বো’
নিশ্চিন্ত হবে দেখে হেন প্রাতঃরাশ!!

৩/
==
মেঠোভাষা ভাসাভাসা
হেলেচাষা সমাচার
কচিকাচা মরেবাঁচা
দরকচা জীবাধার।




১/
==
গল্প কি কভু হয় ছন্দতে বদ্ধ
‘দেবতার গ্রাস’ পড়ে কহ নিজে অদ্য
‘দুই বিঘা জমি’খানা হাতে নাও তারপর
বুঝে যাবে কেন চাই তড়িঘড়ি অবসর!!


২/
==
কৈলাশে কয় লাশে জুড়িয়াছে তর্ক
কত খাঁটি অনাবিল দিশি মধুপর্ক
তদুপরি যোগ করি পরিমিত ‘বাংলা’
কি দাঁড়ায় জানিবারে চাহে বুড়ো আংলা!

৩/
==
শতাধিক ‘লাইক’ পেয়ে অবধ্য কবি
শোভা পায় ‘ফেস্‌বুকে’ সহাস্য ছবি।

৪/
==
কষি কষে ভাবাবেশে সবিশেষ রঙ্গ
বিধি বধে রসেবশে বিবশ বিভঙ্গ।




১/
চাও যদি সশরীরে সোজা যেতে স্বর্গ
নিরলস শান দাও কাস্তে ও খড়্গ।
২/
দুরূহ কি পিষে ফেলা দুয়েকটি বীজ
বিশেষতঃ যদি হও অবতারী ‘চিজ’!
৩/
‘মডারেট’ মূর্তিতে পশ্বেতর আজি
যেনতেন প্রকারেণ জিতিবেই বাজি।
৪/
নকলের সজ্জায় আসল অচল
তল্পিবিহীন রয় হয়ে হীনবল
আত্মবিশ্বাসে ভরা তস্করদল
ফেরার গৃহপতি খুলিয়া অর্গল!




১/
==
জানি আজ লোকলাজ নয় বেশী গণ্য
নব বেশে অবশেষে সকলই তো পণ্য।




২/
==
কেউ ঘোরে ডালে ডালে, কেউ বা পাতায়
অহর্ণিশ ঢালে তেল তৈলাক্ত মাথায়।

৩/
==
উবে গেলে সংসারে কষ্টের কেষ্ট
পাইকারী ভোটদানে নষ্টই শ্রেষ্ঠ।

৪/
==
ভূভারতে আজি প্রাতে লুপ্ত ‘রবি’র কর
নিরবধি হৃদে আধি মহাপ্রাণী জর্জর!




|| ||

নিভে যাওয়া একটি প্রদীপ মানে
নয় অব্যর্থ বার্তা ব্রহ্মাণ্ড শেষের
বরং আরও মহত্তর বার্তার সন্ধানে
অন্যতর বীক্ষায় যাত্রা অন্তরের
তবু সাময়িক পক্ষাঘাতে মূহ্যমান
অনভ্যস্ত সাধারণ হৃদয়
বয়ে চলে ভার এক বহ্নিমান
দুঃসহ চিতার আড়ালে অক্ষয়
স্থির বিশ্বাস বেড়ে ওঠে সটান
আকাশের পানে বুঝি ক্রমাৎ
দুঃসাহসে ছুঁয়ে ফেলে সর্বশক্তিমান
রোধ করে চিরন্তন অশনি প্রপাত।




১/
==
প্রতিকূল অতি হুল যেন শূল টাটকা
বিনায়াসে ধরি বাঁশে খেল স্থূল ফাটকা!




২/
==
কদাকার দুরাচার বাহিরেতে সভ্য
অপরূপ কলা এই নহে তত নব্য
ভেজাল ঘৃতকে কহি বিশুদ্ধ গব্য
অগোচরে বোলবাল নয় মোটে শ্রব্য।

৩/
==
সাতিশয় কারুকাজে পথহারা কাব্য
দিশেহারা হয়ে বুঝি সবই সম্ভাব্য।

৪/
==
কামকাজে লোকলাজে আজেবাজে বোলচাল
উঁকিঝুকি বহুমূখী বকাবকি ভুলভাল!




১/
==
কাব্যের কেরামতি দেখে লাগে খট্‌কা
অন্তরে বিদ্যুৎ বুঝি খেয়ে ঝটকা!


২/
==
ভয়ভীতি সম্প্রীতি সম্প্রতি একাকার
দুষ্কৃতি রীতিনীতি প্রতিনিধি জনতার!

৩/
==
হরিদাসী খেয়ে বাসি একথাল পান্তা
দিবাশেষে হেসে হেসে হল সবজান্তা!

৪/
==
মূর্খামি সম্পদ, মূর্খটি মোর ভাই
তার সাথে বসে আজ স্বর্গের ঘ্রাণ পাই।




১/
==
‘জনগণ’ মানে এক মোক্ষম অজুহাত
এরই নামে যতসব দুর্দম অপঘাত।


২/
==
বোকাশিরোমণি সে যে নামডাক ভারী তার
বড়খোকা ‘ফেসবোকা’ অভিমানে মুখ ভার।

৩/
==
বাসী কথা গরীবের বিকে উঁচু মূল্যে
মাথা ব্যথা অন্যথা লাভটি সাকুল্যে।

৪/
==
ট্যারাবাঁকা রাস্তায় চলিয়া সে পস্তায়
ডামাডোলে সফলতা চেয়েছিল সস্তায়।




১/
==
সহজ কথাটি তুমি বল যদি সহজে
'জ্ঞানী'রা কহিবে -'এর নাই কিছু মগজে' !!


২/
==
গো-বধ করিয়া যদি কর জুতা দান
কোন ব্যাটা রোধে তবে ব্যাপক সন্মান!

৩/
==
অপরূপ এই কূপ জলহীন শুষ্ক
রয় বসে মুঠো কষে পালোয়ান মুশকো।

৪/
==
বাজারে বাজারে ঘোরে বেচুরাম মিত্তির
মাল তার নাহি নিলে ঘটিবেই চিত্তির
বিশ্বাস কুপোকাৎ বরবাদ ভিত্তির
বারোটি বাজিবে তব নির্দোষ পিত্তির!!




১/
==
জনস্বার্থ লয়ে যার রাতে নাহি নিদ্রা
দিবালোকে সদা তারই গাত্রহরিদ্রা!


২/
==
সার্থক কবি মানে বিয়োগেতে দক্ষ
কাঁদায়ে অপরে নিজে উড়ে খুলি পক্ষ!

৩/
==
ইদানীং বুঝিলাম বধির সে ভগবান
চিৎকারে কান তার খাইয়াছে শয়তান!

৪/
==
ক্ষুদিরাম অবিরাম ইশারায় অভিরাম
বিত্তের মাঝে বসে কহে ‘মোর বিধি বাম’!




১/
==
শোনো কবিবর,
বক্ষ হইতে এবে
নামাও প্রস্তর।


২/
==
ডিগ্রীর বাহারে
কোনমতে এড়াইল
সামূহিক প্রহারে।

৩/
==
ম্লেচ্ছের ভাষা;
কুকর্ম ঢাকিবারে
অতিশয় খাসা!

৪/
==
গোড়ায় গলদ
বুঝেও জবর লড়ে
কলুর বলদ!




১/
==
গাছে তুলে মই
নিঃশব্দে সরালে তারে
‘জ্ঞানবান’ কই !


২/
==
পেশা জনসেবা
হলে দেশ উদ্ধারিতে
পিছাইবে কেবা!

৩/
==
এত অট্টহাস
হাসিলে সঁপিতে হয়
জীবনের আশ।

৪/
==
চেয়ে কার পানে
হতেছ জর্জর আজ
সয়ে অপমানে!




১/
==
হায় বসন্ত!
চন্দ্রবিন্দু পূর্বে, পরে
বিসর্গ ও হস্‌ন্ত।


২/
==
গাছে পাকা বেল
বিকট চিৎকারে ক্ষয়
বায়সের তেল!

৩/
==
অতি চমৎকার
ভ্যালেন্টাইন সমারোহে
মান্ধাতা’র বিকার!

৪/
==
নেতা যুগন্ধর
অনুসরে অন্ধ হয়ে
অসংখ্য বান্দর।




|| ||




পারাপারহীন প্রগাঢ় বিস্ময়
টিঁকিয়ে রেখো সচেতন প্রেমে
কিম্বা বন্ধুত্বের বন্ধুর পথে নেমে
অমিত প্রতিভায় প্রমিত অভিনয়
গুছিয়ে আত্মস্থ কোরো অপমান
ধুয়ে দিয়ে সব অবান্তর অবধান
ক্রোধ, গ্লানি ছেড়ে শুধু বরাভয়ে
মনে রেখো পথ চেয়ে নিশা অবসানে
সবিনয় সখ্য হয় জমিন আসমানে
ভুলে যেও যত পাপ উন্মাদ প্রত্যয়ে।




|| ||




মান্ধাতার হাতের সেই জাদুদণ্ড
নিয়ে পাশ ফিরে শোয় এক
কূপস্থ হঠযোগী বিদগ্ধ ভেক
নিরন্তর অন্বেষায় ধর্মীয় ষণ্ড
পুরস্কৃত আজ নাক্ষত্রিক উত্থানে
দ্বিধা নয়, দ্বন্দ্ব নয় কোনো
দক্ষ পেশাদারী হাতে সকলি সাজানো
নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘশ্বাস সচেত সজ্ঞানে।




|| ||




বায়ুভূত অঙ্গার, সঙ্গী
অশোভন মিশ্রণে তাবৎ
হিংস্র অভিসম্পাত
অতএব কাব্য-কলা,
শিল্প ও সঙ্গীত
নিতান্তই আম্লিক বারিপাত।
সহজ ভাষায় কথা?
সে তো সাক্ষাৎ প্রত্যাহ্বান
যেন ঈশ্বরের শিরে বজ্রাঘাত!!
তবু লিখে রাখো আজ
বারবার খাবে কানাগলিতে ঘুরপাক,
ব্যর্থ হবেই শয়তানী আঁতাত।




১/
এক চাটুকার
অবশ্য জন্মিবে ক্ষয়
হলে পাদুকার।




২/
জন্ম বা মরণ
সহজ নহেকো বিনা
তৈলাক্ত চরণ

৩/
মন্ত্রমুগ্ধ জনে
উলটপুরাণ কহ
অতি সন্তর্পণে!

৪/
দক্ষ কপট
মুমূর্ষুর তরে আনে
স্বর্গ-শকট।




|| ||




শেষ হলে সব উৎকট হর্ষোল্লাস
ফিরে যেতে হয় অবসাদের হাত ধরে
সেই অমোঘ নিঃসঙ্গ অতল গহ্বরে
অঙ্কুরিত নির্বেদ অন্তরে মনে হয়
বৃথা এই জয়, বৃথা পরাভব
বেড়ে ওঠে অন্যায়ের ভীড়ে জরদ্গব
বিবেক অভিমানে ছিঁড়ে ফেলে সত্যের ধ্বজা
বেপরোয়া জুয়োশেষে ভিখারীর প্রায়
গোলোকধাঁধাটি ঘুরে সকলি হারায়
স্থবির হৃদয়ে শুধু একা জেগে রয়
অব্যক্ত এক কামনা সানুনয় ‘প্রিয়,
মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিও’।




|| ||




গাড়ি যে চালায় সে ভাবে
চাকাটিও সে-ই ঘোরায়,
করে নিষ্প্রাণ শকটে প্রাণদান,
সে-ই দ্যায় গাড়িটিকে দিক্‌দর্শন।
শুধু দুর্ঘটনার ঠিক আগে আগে
বুঝে যায় সে নির্ভুল
যদিও ষ্টিয়ারিং ছিল তারই হাতে
বস্তুতঃ তার ছিল না তেমন নিয়ন্ত্রণ।




|| ||




'এ ত রাগ নয়, এ যে অভিনয়'
শয়তানে-শয়তানে 'শুভ' পরিণয়।
মাভৈঃ বাণীতে আজ ত্যজি সব ভয়
মুকুলে মুকুলে তার পদচিহ্ন রয়।।




|| ||




ঐতিহাসিক শপথের পটভূমিহীন,
দিব্যিও দেয় নি কেউ কোনোদিন
তবু লিখে যেতে হয়
আদ্যিকালের হিসেবের খাতা,
যোগ-বিয়োগের সব তামাদি নামতা।
এরপরও ঘটনা ঘটে কত
সমৃদ্ধির স্পর্দ্ধায় ঈষৎ অসংযত,
আসে নেপোকুল; মেরে যায় হেলাভরে দৈ
দিশেহারা যত আম, জাম থাকে কার খেয়ালে?
একাকার ডামাডোলে সব; ‘সদরে, বাজারে, আড়ালে’।




|| ||




নামগোত্রহীন এক নক্ষত্রের দিকে দৃষ্টি
নিবদ্ধ রেখেও কেটে যেতে পারে
সাধারণ একটি জীবন;
নাই বা রচনা হলো কোনো
মহৎ কাব্য কিম্বা ততোধিক
কিছু অতিজাগতিক সৃজন।
দিনরাত তারপরও হবে,
ঋতুর সাড়ায় জাগবে পৃথিবী,
উল্লাসে-শো্কে, আনন্দ-ব্যথা;
তারপরও লিখে যাবে কেউ
খেরো খাতাটির একপেশে বুকে,
ভাষাহীন ‘তাহাদের কথা’।।




|| ||




অপরূপ বিভূতির আবরণে
ভেসে আসে নিরুচ্চার গান
শতাব্দীপ্রাচীন জীবনের সুরে
রয়ে গেছে অকাট্য প্রমাণ।
কেউ কি শুনেছো তার খাঁজে
আবেগের পরিণত ভাষা?
শিল্পের সুষমায় ভরে থাকা উত্তাপে
অন্তহীন অদৃশ্য ভালোবাসা।




|| ||




কিঞ্চিৎ জীবনমুখী পরশ পাইলে ‘কান্তকবি’র কবিতাটি এইরূপ হইতঃ
----------------------------------------------------------------------
নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,/ কেন কি দূষণ আজি অতীব প্রবল !
তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল,/ কীটনাশকের সাথে নাহি চলে ছল !
গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান,/ বিক্রী করিয়া তাহে হয় ধনবান !
কাষ্ঠ, দগ্ধ হয়ে, করে পরে অন্নদান,/ ধোঁয়ায় লাঞ্ছিত লোকে করে অশ্রুস্নান !
স্বর্ণ করে নিজরূপে অপরে শোভিত,/ ছিনতাইকারীগণ না রহে ক্ষোভিত !
বংশী করে নিজস্বরে অপরে মোহিত,/ প্রয়োজনে বংশদানে বিরোধী শায়িত !
শস্য জন্মাইয়া, নাহি খায় জলধরে,/ রপ্তানী বাণিজ্য করি কিছু আয় করে !
সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত-তরে।/ এই বাক্য কহে নেতা নামাবলী পরে !




|| ||



।। মৃত্যুঞ্জয় ।। ('মধ্যবিত্ত ক্ষুদিরাম'কে)




ক্ষ্যাপা করে কসরৎ হাসিবার তরে

শমন তথাপি হানা দেয় আসি দোরে।

আরক্ত লোচনে খুলি অসি ক্ষুরধার

বিদারিতে বক্ষ তাহা হানে বারম্বার।।


কেহ করে উল্লাস, কেহ বা বিষাদ

প্রথম সারিতে কেহ ছাপে সম্বাদ!

হাসিতে হাসিতে ক্ষ্যাপা তবু নাহি মরে

অমর অবুঝ শিশু আছে যে অন্তরে।।




|| ||




নিজস্ব সম্পদ বলে আছে এক ঢোল, ফাঁসিবার পূর্বে তাই তুলি নানা বোল।
সেই বোল শুনে যদি দাও হাততালি, জয়ধ্বনি দিতে দিতে ছেঁড়ে কণ্ঠনালী।
আর যদি বল কিছু তীর্যক সুরে, জানি ঠিক বংশটি কোথা দেব পুরে।
এরপরও বল যদি চেন নাকো মোরে, নিশ্চয়ই নেশা করে আছো তুমি ঘোরে !!










।। বিলাপ ।।







এক মাঘে যদি কহ নাহি যায় শীত,

ভানিবারে ধান তবে কেন শৈবগীত?

মাঘেতে মঘাতে মিলি সর্বশক্তি দিয়া,

সমুদায় ‘মূল’ বুঝি ফেলে উখাড়িয়া।


‘হরিদাসে’ করি রণে প্রত্যক্ষ আহ্বান,

অদ্য কেবা কার তরে বাজী ধরে জান!

শিল্পকলা গলাবাজী সবি ভুল ভৈল

তন্ত্রমন্ত্র, ঝাড়ফুঁক বৃথা সব তৈল।

বিশল্যকরণী যথা ‘সেকু’মন্ত্র আজি,

হনুকুল ফেলিতেছে বিনা তেলে ভাজি।

কুকর্মের ঘড়া ভরি যাবৎ সঞ্চয়

বানরেরে রুধিবারে বুঝি কম হয়।

বোমা, পেটো, পিস্তলাদি আয়ূধের দম,

বর্দ্ধনে ব্যর্থ এবে ক্যাডার-উদ্যম।

খিস্তি খেউড়ে যবে দিল না’কো কাম,

দেবদ্বারে অহর্নিশ ঝাড়িছে প্রণাম।

নিদ্রা নাহি, নাহি মন পিঠা, পুলি, পায়সে

খায় যদি খাক সব ভবঘুরে বায়সে।

‘হরি’নাম বিনা বুঝি নাহিক’ উদ্ধার

নচেৎ ছাড়িতে হবে প্রপঞ্চ সংসার।

আছ যদি কোথা কেহ সাতিশয় বিজ্ঞ

নিদানটি দিলে বাছা রহিবে কৃতজ্ঞ।

জানি লহ লুণ্ঠনে ছিল যত ত্রুটি,

মিটাইবে আরবার যতেক ভ্রুকুটি।

খ্যাপ্‌লা মারিয়া আর ধরিবে না কেহ

সমাজসেবককুল ত্যজিবে না গেহ !!

করজোড়ে মাগে আজি শুভেচ্ছা সবার,

জনসেবা তরে প্রাণ হ’ল জেরবার !!





।। জীবনানন্দের প্রতি ক্ষমাপ্রার্থনা সহ ।।


শয়তানের মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি ঈশ্বরের রূপ

খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে গণতন্ত্রে্র চূড়ে

চেয়ে দেখি জালার মতন বড়ো মাথাটির নিচে বসে আছে

ভোরের মরণদূত — চারিদিকে চেয়ে দেখি ছিন্নমুণ্ডের স্তূপ

রাম-শ্যাম-যদু-মধু-আশিসের করে আছে চুপ;

ফণীমনসার ঝোপে কংক্রীট-জঙ্গলে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে;

সুগভীর রসাতল থেকে না জানি সে কবে সপ্তম নরকের কাছে

এমনই হত্যা—সন্ত্রাস—অপহরণের কাল ছায়া শয়তানী অপরূপ কূপ

দেখেছিল; প্রেতকূল একদিন দিল্লীর পথে ঠেলা নিয়ে —

ঘোর অমাবস্যায় সব আলো যবে মরিয়া গেছে ভ্রান্তনীতির চরায় —

জীবনমুখী সঙ্গীতে অসংখ্য অসহায় জন দেখেছিল, হায়,

চামুণ্ডার বজ্রহুঙ্কার শুনেছিলো — একদিন সংসদে গিয়ে

ছিন্নমস্তার মতো যখন সে নেচেছিলো উদ্দাম প্রতিনিধি সভায়

পূণ্যভূমির যত লোকজন ছিন্নমুণ্ড হয়ে ঝুলেছিল তার গলায়।

-------------------------------------

।। বিদ্যাধিক্য ।।


অধিক বিদ্যা এক জীবন্ত প্রমাদ // পীড়িত হৈলে হবে জীবন বিস্বাদ।

এই রোগে প্রগলভতা বিশেষ বারণ // হাসির কথাতে প্রাণ হয় উচাটন।

বায়ু, পিত্ত, কফ আদি হইয়া প্রবল // বিকারাদি নৃত্যমুখী খুলিয়া অর্গল।

ত্যাগ দিয়া নিজ ভাষা যাবৎ সংস্কার // নব নব সভ্যতায় করিতে প্রচার।


সরল দৃষ্টিতে দেখা নাহি পায় কিছু // বাতিক, সন্দেহ সদা চলে তার পিছু।

বক্র চাহনি সাথে ন্যুব্জস্কন্ধ চাল // আপন বাণীটি বিনা সকলি প্যাচাল।

বিশ্বাস করে কিবা কহে কিবা আন // মুখপত্রে (facebook) ছত্রে ছত্রে অঢেল প্রমাণ।

মহাত্মা বনিতে গিয়া খেলে ভারী জুয়া // বুদ্ধিমানে দেখামাত্র জ্বালায় ‘কছুয়া’।

কতেক দুর্বৃত্ত হাতে লইয়া বিছুটি // সুযোগে প্রয়োগ করে নাহি করে ত্রুটি।

গালি দিয়া অগ্নি বর্ষে কুপিত বিদ্বান // ক্রোধের দমকে হরে সর্ব কাণ্ডজ্ঞান।

আপন স্তাবকদলে শংসাপত্র দিয়া // বিরোধীর শ্রাদ্ধ সারে তিল সমর্পিয়া।

দুরারোগ্য স্তরে গেলে ‘সেক্যুলার’ কয় // সমূহ বিপদ তাতে জানিবা নিশ্চয়।

জলাতঙ্ক রুগীসম প্রকাশে লক্ষণ // ‘কম্যুনাল’ পাইলে কাঁচা করে ভক্ষণ।

লুকাইয়া দেবদ্বারে প্রার্থনাটি করে // সাক্ষাতে আসিয়া পুনঃ ‘সেকু’মূর্ত্তি ধরে।

উৎসবে পার্বণে করি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন // বিশ্বজনেরে চাহে করিতে আপন।

মূর্খকুল তবু করে নাহি’ক প্রত্যয় // অতঃপর ‘কম্যুনাল’ সাগরেতে লয়।

অগ্নিমান্দ্য রোগে ভুগি যাবজ্জীবন // জনতার জ্ঞানচক্ষু করে উন্মীলন।

তাঁহাদের কথা ভ্রাতঃ অমৃতসমান // আরও কিছু পূণ্য কর পাইতে বাকীখান।

।।বেহাল : হরিদাস পাল ।।


গদিতে আসীন এবে ‘হরিদাস পাল’,

অহর্নিশ খুঁজিতেছে ‘সেকুলার’ ছাল।

নির্মম হস্তে তাহে ছাড়াইতে চায়,

‘মা-মাটি-মানুষে’র কি হবে উপায় !!



“ নামে 'কুলার' হইলেও তাহারা আসলে 'হীটার' ; গোলকীয় উষ্ণায়ণের অন্যতম কারক। সাইবেরিয়ায় চালান দিতে পারিলে স্থানটি বসবাসযোগ্য হইয়া উঠিতে পারিত। 'হরিদাস পাল' বাংলা জানিলে নিশ্চয়ই বিষয়টি বিবেচনা করিতেন !!”





ছাগলনামা
=======

‘রাম’ছাগল আর ‘আম’ছাগলে করছে ভীষণ যুদ্ধ
রণক্লান্ত ‘বাম’ছাগলের বাক্‌টি অবরুদ্ধ।
‘স্ক্যাম’ছাগলের দিনটি এখন বিশেষ রকম মন্দ
‘আলু’, ‘মুলো’ সঙ্গে পেয়েও কাটছে না আর ধন্দ!!
কিন্তু ভায়া সব ছাগলের ‘তৃণ’ই ‘মূল’ খাদ্য
আজ হোক, কাল হোক মুড়োবে প্রান্ত আদ্য!!



।। 'অগ্নিকন্যা'র প্রতি ।।


অগ্নির কন্যা-------------আজ তুমি কম না

--------লয়ে সাথে শত শত ভাই।-------

আগুন হঞাছ যবে---------নির্ঘাৎ পুড়িতে হবে

---------শেষে হবে নির্বিকল্প ছাই।।-------

লইব স্বস্তির শ্বাস--------------এই মোর বিশ্বাস

------দুটি তালি বেশী দিবে পাগলা গদাই।-----

জনতা আশায় রহে------------ফিস্‌ফাস্‌ কথা কহে

-------প্রাণভরে চাহে হতে রাজার বোনাই !!----

ভনয়ে ইদ্রিস্‌ আলি--------------নির্ঘোষে বজ্র ঢালি

-----------জনগণে ভাবি বোকাপাঁঠা----------

অলক্ষ্যে বিধাতা হাসে-------------জনতার সর্বনাশে



-----------ক্ষমতার এমনই কি আঠা ??-------



।। উপলব্ধি।।


ঠাকুরঘরেতে বসি কলা নাহি খায়,
জগৎ উদ্ধারিতে সাধিছে উপায়।
জপতপ করে সেথা বসি নির্বিকার,
সন্দেহ যে করে তাহে সে ই দুরাচার !!


                                                                        

                                   

                                  ।।  হাইকু ।।




হাইকু



হাইকু :

.রহিল নীরবে
তবু শুনি প্রতিবাদ
...নিজ অনুভবে ।।

--------------------------

....স্তব্ধ জলাশয়
অভ্যন্তরে সে'ও ধরে
....মণি কতিপয় ।।

--------------------------

..মুখোস ও মুখ
একাকার হইলে তাহে
...অন্তহীন সুখ ।।

------------------------------

বিধি হৈলে বাম
চতুর ভণিতাছলে
গাহে হরি নাম !!

--------------------

বসনটি শ্বেত
কেমনে কহিব তাহে
অশরীরী প্রেত !!
---------------------
                                                                     
*
সংবিধান জুড়ে সুড়ঙ্গ কেটেছে খাস
চুপিসাড়ে খসে গেছে কবচ ও কুণ্ডল
অথচ কলতানে শোনো কি উচ্ছাস
তন্ত্রে আজ শুধু আছে খাঁটি বাহুবল।
**
তরল বিশ্বাসে দ্রব সব গুণ, বাণী
অগত্যা জেগেছে বীর ঘোর ক্ষাত্রতেজে
রণসাজে ছুটেছে বেগে লক্ষ সেনানী
আজই বুঝি লুটে নেবে মগজ মহাফেজে।
***
বন্ধ হয়ে গেছে যত বিকল্প প্রবীণ
বাস্তুহারা পথচারী রাজার জামাই
শোধবোধ হবে নাকো আর কোনো দিন
জাবদায় লিখে রাখো কিলের গোঁসাই!
****
স্মৃতিরেখা মুছে যায় ব্যস্ত ঘর্ষণে
পথচলা অনুমানে স্খলন বারম্বার
পারো যদি জ্বলে ওঠো লঘু বিজ্ঞাপনে
স্থাবর, জঙ্গম সব করে একাকার।

-------------------------

।।পরাজয় আখ্যান।।
=============
যেতে পারো দৃশ্যান্তরে
ইচ্ছাধীন স্বচ্ছন্দ পদক্ষেপে
ছেড়ে এসে কোলাহল আর
যত কিছু রেখেছো চেপে
যোগসূত্রহীন অবান্তর বাড়াবাড়ি
তবে কোরো না ক্লান্ত বর্ণন
আপোসের নীতিভ্রষ্ট স্বরে
যুদ্ধবিরামের আত্মঘাতী পণ।

সন্ধিপত্রের প্রতারণার হরফ
উবে যাবে সুবিধে সুযোগময়
রণক্ষেত্র হয়ে গেলে সব
মাঠ, ঘাট, বসতি, আলয়
কোথা যেতে পারি এরপর
কড়া নেড়ে; মাঝরাতে শুনশান,
পথচারী কুকুরকেই একমনে বলি
ভুঁইফোঁড় পরাজয় আখ্যান।

------------------

।। প্রতিশ্রুতি ।।............
====================
থেমে যেতে হবে তাই নিজেই বেছেছি
পূণ্যবলে প্রাপ্য এক জনশূণ্য গ্রহ
মরীচীকা হতে পারে; সম্ভব সাজানো বাগানও
তারই মাঝে খুঁজে পাই অরূপ আবহ
তুমি যদি আড়াল হও, কিছুকাল মূঢ় হয়ে থাকি
কোথায় হারায় যেন নিহিত নিশ্চিতির মেয়াদী আশ্বাস
বেঁধেছো স্বপ্নের আবাস, ফল্গুধারায় ভাষা অন্তর্লীন
মৃদু লয়ে প্রতিশ্রুতি ডাকে, ছুঁয়ে যায় স্নেহের বাতাস।

-----------------------------------

 ।। মায়া ।।...........
=================
পতনের ছন্দ ঘিরেও দিয়েছো
এমন অপরূপ সুষমার প্রলেপ
মনে হয় কখনো সত্য বটে!
বিশ্বাসের মাদুলী পরে সুতরাং
ঢুকে যাই গোলকধাঁধায়
অর্বাচীন অভিমন্যুর মতো
দূরদৃষ্টিহীন নিরস্ত্র একা।

হেসে ওঠে তাবৎ সংসার
নিসর্গ ডুবে যায় সহর্ষ উল্লাসে
মূঢ়তায় বুঝি রেখেছো প্রভু
ব্রহ্মাণ্ডের সমূহ কুশলী আমোদ
অজ্ঞাত জাদুদণ্ডের ঐশী লীলায়
ঢেকেছো মহৎ আশয়ে ক্ষত
সবুজের মায়াবী আস্তরণে
আগ্নেয় কূপ আর সুপ্ত ধর্ষকাম।


---------------------------

দূরদৃষ্টি........
============
অন্ধকার সয়ে গেছে
উড়ে গেছে বিষাদের মেঘ
দৃশ্যতঃ স্পষ্টরূপে দেখি
অসংযত বর্ণবিপর্যয়
পারিপার্শ্বিক তমসার ওপারে
চিত্রিত স্থায়ী ভবিষ্যত।

প্রীতিবদ্ধ বিপরীত রীতি
ব্যস্ত বিষম মুক্ত ক্রীড়াঙ্গন
সেয়ানে সেয়ানে নিরন্তর
আলিঙ্গন শেষে সুদৃশ্য
খোলসে ঢাকা নিখুঁত সম্ভাষ
শুনে ফিরেছে সে বসতির দ্বারে।

------------------------

.

*
আকণ্ঠ করেছো পান সুখে
গেঁজে ওঠা তীব্র হলাহল
সুধা তবু ঝরে অমলিন স্বরে
হেসে ওঠে শত শতদল।
**
নিবু নিবু গোধুলির আলোয়
দৃষ্টি আর স্বচ্ছ নয় তত
ভাবি তবু দেখে যাবো উপশম
চোদ্দ-আনা পড়ে পাওয়া ক্ষত।
***
অনাবদ্ধ উপমার স্রোতে
ধুয়ে মুছে প্রতিকৃতি সাফ
ভাবমূর্তি অক্ষত তবু
হয়নি কো গুরু অপলাপ!
****
তার কাছে গচ্ছিত কর্মফল
তারই কাছে আছে সমাধান
হুজুগে ভ্রান্তিময় দুরূহ যাপন
হারিয়েছে সাজানো বাগান।

-------------------

কত জন্ম ধরে করেছো লালন
মস্তিষ্ক জুড়ে থাকা
নখদন্ত আর বিষেভরা ভাঁড়
হে দুপেয়ে শ্বাপদ!
মৃতদেহ দেখলেই বুঝি জেগে ওঠে
আদিম শিকারের স্পৃহা
মন চায় ছিন্নভিন্ন করে দিতে সব
নিদেনপক্ষে মেখে দিতে বিশুদ্ধ কলুষ
তা হোক না সে মৃতদেহ
কোনো টম-ডিক-হ্যারির
অথবা কোনো আব্দুল কালামের।
এ নিয়ে আর যাবে কত দূর
হে শ্বাপদ, 'আদত সে মজবুর'!!


-----------------------------

*
জন্মান্তরের সুখকর কথা
বলো দুটি কানেকানে আজ
মিথ্যে হলেও ক্ষতি নেই সাধু,
যদি তুমি হও মহারাজ!
**
বাতাসে ওড়ে তামাদি গুজব
জেগে ওঠে অষ্টরম্ভার লোভ
হ্যামলিনের বাঁশীর দিকে কায়মনে
ধেয়ে যায় লাজ, মান, ক্ষোভ।
***
গোপনে নিও তাঁর নাম
বাক্যহীন আক্রোশের ক্ষণে
কৃতবিদ্য ভীড় থেকে দূরে
আভূমি নত পূত আবাহনে।
****
স্রোতস্বিনীর তীরে বসেও
রচেছো এই বিষাদের গাথা
লেলিহান শিখায় জ্বলে ওঠে
ক্রোধরূপে, চেপে রাখা ব্যথা।

-----------------------

চেনা ধুমকেতু
===============
পল্লবিত আকাঙ্খার ডালে
একটি দুটি করে
বাসা বাঁধে ব্যস্ত ঘুঘুকুল
নুন আনার আগেই
নির্ঘাৎ পান্তা ফুরোয়;
তবু সে’ই বটে ডুমুরের ফুল
কালঘাম ছুটে যায়
আত্মঘাতী অর্বাচীন বেগে
কোনো এক অচিন মোহনায়
পৃথিবীর কান ছুঁয়ে
অগ্নিপুচ্ছ চেনা ধুমকেতু
একপাক আরো ঘুরে যায়।

------------------------
 .....স্বচ্ছ জীবন........
===============
বেড়ে ওঠা লিপ্সার ছায়ায়
প্রাণাধিক প্রিয় আজ তাই
তপ্ত বায়ূ, রুদ্ধ ঘোলাজল
তবু স্বতঃসিদ্ধ অভ্যাসবশে
ক্লান্ত নক্ষত্রের অস্ফূট আভাসে
মৃদুপদে মাথা তোলে প্রসন্ন সকাল
আহ্বান ভেসে ওঠে চরাচর জুড়ে
উদ্ভাসে কেটে যায় নেতিবাদী তাল।

প্রাতঃভ্রমণের আলাপচারিতায়
দু-চারটি পরিচিত কথা
ছুঁয়ে ফেলে ষড়জের অতিমন্দ্র স্বর
উঠুক তরঙ্গ হয়ে অচিন সে নাদ
যুদ্ধহীন, মৃত্যুহীন, রহিত প্রমাদ
গড়ো একা প্রতিবদ্ধ স্বচ্ছ জীবন
জীবিকা-ঘুর্ণির অভেদ্য জালে
ব্যাপ্তিতে রুখে দাও ছন্দপতন।

--------------------------

*
মর্মের কথা নিয়ে মৌন অবসরে
গাঢ় হয়ে ওঠে ইচ্ছামৃত্যুর ধ্যান
সিদ্ধির বেশে এ যে কি পরাজয়;
করেছো কখনো তার অনুমান!
**
যেতে পারে স্বর্গে সে কখনো
আদি নাম ছিল যার ‘রূপতাপস’,
মানেনি যে কখনো কারাবাস,
হয়নি কোনোদিন ভীতিপরবশ!
***
তৃপ্তির খোঁজেই বুঝি এত রণসাজ
সফল শিকার শেষে গোগ্রাস ভোজন
আদিরস আদ্যোপান্ত নব পাঠ্যক্রমে
দানধ্যান, পূজোপাঠ, বিলাসব্যসন।
****
রচনার আঁচেই নিবৃত্ত হবে
রসনার জন্মজোড়া শিখা?
আজীবন খুঁড়ে পেয়েছি কেবল
সীমাহীন অতল পরিখা !!
 --------------------


 জালিম লোশন
=========
শৌখীন মাসে
................বসতিবিলাসে
.................................আলো হয়ে হাসে
.....................................................সাজানো কুশন।
দিনশেষে ঘরে
..................সন্ততি ফেরে
..................................গোপন পকেটে পুরে
.........................................................জালিম লোশন।।




-----------------------------------

..আবার এসো.......
==============
পুষ্প কিম্বা অনাবিল মন
যদি হয় কিছু সুকুমার,
শিশুর মতো; ‘জ্ঞান’বিনে
নিষ্পাপ মহিমা প্রচার
প্রাকৃতিক শিল্পের অতীত,
মন চায় ছুঁড়ে দিতে তাকে
আস্তাকুঁড়ে; সীমানা প্রসার
নিয়তির মহাকুম্ভীপাকে
তুমি-আমি, সবই গেছি
নিরবধি ভাগাড়ের গ্রাসে
সবই হলো, সত্য বলি যদি;
সভ্য হবার ব্যস্ত প্রয়াসে
কোন ফাঁকে যেন হারিয়েছে
ঝোলাগুড় আর পাউরুটি
সূক্ষ্মপথে ঢুকে গেছে কারা
ছিঁড়ে নিতে বেয়াদব টুঁটি
যদি পারো আবার এসো
হে পাউরুটি, হে ঝোলাগুড়
সহর্ষে ছুটে এসো, হে অরণ্য
বর্ষাগীতি সহ; হে ত্রুবাদুর !!


---------------------------

সাধনার ধন........।
================
খুঁটিছেঁড়া বাছুরের মতো
অরক্ষিত হৃদয় ভেদ করে
বের হয়ে গেছে দুটি অন্তর্গত কথা
পিছু ছুটে তার যেন পলকের ঘোরে
কেটে গেল মহার্ঘ একটি জীবন
খুঁটিছেঁড়া বাছুরেরই মতো
চেনেনি সে আজো ঠিকঠাক
গন্তব্যের গতিপথ, সঠিক ঠিকানা
ছুটে ছুটে মাথা কুটে অনাহূত দোরে
বেড়ালের ঘন্টায় অপচিত সাধনার ধন।



---------------------------------

আমাদের মহান দেশের মহদাশয় জনপ্রতিনিধিদের দেখিয়া কতিপয় পরশ্রীকাতর ব্যক্তি অনবরত ঈর্ষায় জ্বলিতে থাকে এবং কারণে অকারণে উক্ত প্রতিনিধিবর্গের প্রতি কোন না কোন ছুতায় বিষোদ্গারের সুযোগ ছাড়ে না। এই দেশদ্রোহী জনগণ সম্প্রতি ঢালাও ভর্তুকিপ্রাপ্ত সংসদভবনের ভোজনালয়টি লইয়া নানারূপ কটুক্তিসমৃদ্ধ অসংসদীয় আচরণে লিপ্ত হইয়াছে এবং গণতান্ত্রিক দেশের কল্যানকামী সরকারকে নানারূপ লাঞ্ছনায় পর্যুদস্ত করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছে। সর্বস্বহারা নেতাগণের (ন্যায়, নীতি, সততা, বিবেক ইত্যাদি রহিত ব্যক্তি হইতে দরিদ্র এই জগতে আর কে আছে!) ক্ষুণ্ণিবৃত্তির এই সামান্য আয়োজনেও নিরন্তর তাঁহাদের চক্ষু টাটাইতেছে। কেহ কেহ এই কাহিনীর সহিত এল্পিজি সিলিণ্ডারকে জুড়িয়া দিয়া পরিস্থিতি আরো ঘোরালো করিয়া তুলিয়াছে। তাহাদের দাবী সংসদভবনস্থ ভোজনালয়ের ভর্তুকি প্রত্যাহার না করিলে তাহারা এল্পিজি ভর্তুকির দাবী ছাড়িবে না! নিজের নাক কাটিয়া অপরের যাত্রাভঙ্গ করা অপেক্ষা সেই যাত্রায় শরিক হওয়া যে অধিক বুদ্ধিমানের কর্ম তাহা ইহাদিগকে কে বুঝাইবে! তাহারা বরং এই দাবী পেশ করিতে পারিত যে জনগণের জন্য খাদ্যশস্যের ভর্তুকি ইত্যাদি বাতিল করিয়া দেশব্যাপী গ্রাম, গঞ্জ, গলি, মহল্লা সর্বত্র এইরূপ ভোজনালয় খোলা হউক যাহাতে কোন বাড়ীতেই পাকশালের আর প্রয়োজন না থাকে। এতদ্বারা তাবৎ দেশবাসী নামমাত্র মূল্যে সুখাদ্য ভক্ষণের সুবিধা লাভ করুক এবং ধন্য হউক। এই সঙ্গে বিপুল কর্মসংস্থাপনের কথা এবং বেকারত্ব দূরীকরণের সম্ভাবনার কথাও মনে রাখিতে হইবে। কিন্তু ‘কা কস্য পরিবেদনা’!! সীতারাম ইয়েচুরী (তিনি কি অকথ্য কিছু চুরি করিয়াছিলেন, যাহার নাম ‘ইয়ে’ দিয়া সারিতে হয়!) প্রমুখ স্বঘোষিত নিধিহারাপ্রেমীগণও ঐ পথ মাড়াইতে নারাজ। সরকার সংসদ ভবনের ভোজনসংক্রান্ত ভর্তুকি প্রত্যাহার করিলে আমাদের, বা ‘আমাদ্মী’গুলি এল্পিজি ভর্তুকির দাবী না ছাড়িলে সরকার বাহাদুরেরও কি আর তেমন যায় আসে! সুধীবৃন্দ প্রস্তাবটি বিবেচনা করিবেন আশা করি। শ্রদ্ধেয় অগ্রজপ্রতিম মান্যবর শ্রীযুক্ত Suranjan Dutta Chowdhury মহোদয় তাঁহার সুললিত ইংরাজীতে একটি মুসাবিদা ‘নাজিল’ করিলে  লক্ষাধিক দস্তখত সম্বলিত একখানি স্মারকলিপি change.org-র মাধ্যমে মহামহিম রাষ্ট্রপতির নিকট দাখিল করা যায়। এই পদ্ধতিতে সরকার বাহাদুরের যোগাত্মক প্রতিক্রিয়া এই জন্যই আশা করিতে পারি যে ইহাতে কেবল লক্ষ লক্ষ ঠিকাদারও সমূহ লাভান্বিত হইবে এমন নহে; ‘এল্পিজি’ এবং তদনুরুপ একাধিক ভর্তুকি ও তৎসংক্রান্ত বহুমুখী ‘ঘোটালা’র সম্ভাবনাও কিয়দংশে নির্মূল হইবে। উপযুক্ত সময়ে সুরন্ধিত খাদ্য না পাইলে জনগণও পরিস্থিতিসাপেক্ষে বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা লইতে তেমন কুণ্ঠাবোধ করিবেন না। গণতন্ত্রের মহীরূহটি অনতিবিলম্বে ফুলে-ফলে ভরিয়া নবযৌবন প্রাপ্ত হইবে !!

------------------------------------------------------------



জীবনী..........
=============
চিরস্থায়ী নাম-ঠিকানা
লিখে যেতে চায়
সাগরবেলায় এ পাগল
কে বোঝায় তাকে
সাগরের তীরে
স্থায়ী নয় কিছু
ধুয়ে মুছে যাবে সব ছল
কথা, কাব্য, গীতি;
যাপনের যত অনুশীলন।
একমনে নিবিষ্ট পাগল তবু
লিখে যেতে থাকে ক্লান্তিহীন
দীর্ঘতর আত্মবিবরণ
অজস্র সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে
জীবনব্যাপী মহাদস্তাবেজ।
০০০০০০০০০০০০০০০
০০০০০০০০০০০০০০০০০
০০০০০০০০০০০০০০০০০০০
বহকাল পরে আবারো আসে সে
সাগরের তীরে সপরিবার
হুটোপুটি করে জলে
পাগলের পুত্র, কন্যা, দার
বালুশয্যায় পাশ ফেরে পাগল; আর
জলে মেশা জীবনী গায়ে মেখে উজ্জ্বল
তার হাতে গড়া সংসার।


---------------------


।। একটি হাত ।।.....
===============
নির্মাণ বা ধ্বংস যাই হোক
তার পেছনে একটি হাত থাকে
সাদা না কালো; কি তার রঙ
সেটা খুব বড় কথা নয়।
আসল কথা হচ্ছে একটি লাঠি
আড়াল থেকে নেড়ে যায়
যাবতীয় কল; অপবাদে কাঠি।
.
পাল্লা সব ভারী সেদিকে তবু
মূর্খ ভাবে বিদ্রোহের কথা
প্রতারক হরষে স্বেচ্ছাবধির
রহস্যের অদৃশ্য সক্রিয় হাত।
বৃত্তাকার পথে যাওয়া বা আসা
পাকেচক্রে আসলে একই কথা
এখানেই লুকোয় ত্রিশঙ্কুর পরিভাষা।
.
সে হাতে গুনতে যেয়ো না নখ
কোনোই লাভ নেই তাতে
তবে সুযোগ পেলে একবার
অপাঙ্গে মেপে নিও আয়ূরেখা।
আনমনে বরাবর কালবধ খেলা
আজন্ম লালিত যত বোধাতীত দ্বেষ;
একে একে ঝরে যায় নীরবে এবেলা।


------------------------------

....।।ভবিষ্যৎ।।....
============
সামান্য এ যাত্রাপথে
কতবারই গেছি কিছুদূর
পদচিহ্ন ধরে পথের সন্ধানে;
উদ্বায়ী সে পায়ের ছাপ
আপন খেয়ালের বশে
মিলিয়েছে হঠাৎ কোনখানে।

ক্রুদ্ধ দৃষ্টি আড়া্ল করে
আশ্রয় তবু দিয়েছে সংসার
দয়া কিম্বা সরল জীবপ্রেমে;
কৃতজ্ঞতার ভাষা দ্রব হয়ে
ভুলিয়েছে সামাজিক বিধি,
রক্তে মিশে গেছে ক্রমে।
গোলকধাঁধাঁর মাঝে দিশাহীন
আজীবন খুঁজে ফেরা
কালের বুকে সেই দস্তখত;
অথচ দুটি মাত্র ছন্দহীন ছত্রে
নির্ভুল লিখে গেছে কেউ
সভ্যতার আমূল ভবিষ্যৎ।

-------------------------

.......ভালো থাকা.........
===============
ভাঙনের প্রচারেই আদিষ্ট
ওরা শুধু ঐশী বাসনায়;
সংস্থাপনে সামাজিক ন্যায়?

মনে পড়ে না কিছু আর
বিস্মরণের আচরণে যেন
থাকি হয়ে ‘তৃণাদপি সুনীচেণ’।
কিছু নিরাপদ প্রেয় ছত্রছায়া;
হোক তা সে বিষবৃক্ষের,
দুর্ভাগ্য বা গ্রহতারার ফের।
আজকের দিন শুধু কেটে যাক
কোনোমতে অঘটন ছাড়া
সাদামাটা থোড়-বড়ি-খাড়া।
একেই ভালো থাকা বলি আজ
সত্যি মিথ্যে জানি না কিছুই
এ কি নিজ ঘর, না বিদেশ বিভুঁই!

---------------------------

 ...।।নীরব প্রহরে।।...
=============
যেতে হয় আলপথ ধরে
অতি সন্তর্পণে
বাক্যালাপ আরো নীচু স্বরে।
ওৎ পেতে বসে থাকে
অসীম ধৈর্যে অগুন্তি ধিক্কার
ছদ্মবেশী প্রলোভন হয়ে ডাকে।
বুঝে গেছি সব; কু-বাতাসে
তবু কেন আন্দোলিত হই
আশা ভরে প্রতিটি নিঃশ্বাসে!
তমসার রাজপথ ধরে
যোগ দিতে দীর্ঘ মিছিলে
সন্ত্রস্ত নীরব প্রহরে।।


-------------------

অর্জন...........
==============
কবে যেন মানুষ ছিলাম
মনে পড়ে না আর সে কথা
যেন সুদূর প্রাগৈতিহাসিক
বিবর্তনের কোনো বিষাক্ত পথ বেয়ে
হয়ে গেছি সুপ্ত অবধানে
অবিশ্বাসী জড় অজগর
হিসেবের তাড়নায় ভণ্ড জলচর।
.
কুদৃষ্টির সহর্ষ তাড়সে শুকোয়
জলধারা, প্রতিটি জীবকোষে
হাঁকে সেধে আনা খুনী মন্বন্তর
তবু কারা যেন সুর ভাঁজে,
রাত জাগে কবি অর্বাচীন;
সবাই নয় তবে সুভদ্র ক্লীব,
কিম্বা অবাঞ্ছিত মারী অণুজীব।
.
যেন কোনো অলঙ্ঘ্য ইশারায়,
প্রসঙ্গ থেকে সরে সরে আসি
অজানা উদ্দেশে তালকানা, বেপরোয়া
অভিলাষী গায়কের মতো
শাপমন্যি হজম করে অনায়াসে
লাভ-ক্ষতি বোঝে নাকো মন
সংসার ঝেঁটিয়ে আনা ঐহিক অর্জন !!



---------------------------

______ঘোর_______
================
সহনীয় নয় ক্লান্তির এ বোঝা,
সাফল্যের গগনচুম্বী মিনারের ছায়ায়
তাই বলি, 'হে পথ; এতকাল
হয়েছে যা হওয়ার, কিন্তু
আর বঞ্চনা কোরো না'
অপরূপ হাতছানির আমন্ত্রণে
পা টিপে টিপে চলি আজকাল
মানবীয় উত্থানের আশায়
জেনে গেছি এক স্নিগ্ধ প্রাতে
হারায় নি কিছুই, শুধু এক
অজানা সুষুপ্তিতে মিশে থাকে
দুঃস্বপ্নের অযাচিত ঘোর;
কেটে যাবে মৃদু ছোঁয়ায় অকস্মাৎ
আশা নিয়ে রয়েছি বিভোর।


------------------------

।। দেশ আছে যথাস্থানে ।।
================
রাত্রিশেষের স্পষ্ট নির্ঘোষে
বীজটি উপ্ত হোক এবার
ভেদ করে সাবধানী মোড়ক
আসুক মুক্ত আকাশের নীচে।
আলোকিত করুণার ঢলে
বেড়ে উঠুক স্বাভাবিক ক্রমে
বৈধরূপে পত্র-পুষ্প-ফলে।
.
বিশল্যকরণীর খোঁজে পথে
নেমেছে আজ উন্মাদ সেনা
লক্ষ্য শুধু স্থায়ী নিরাময়ে
আজন্ম চেপে আছে কাঁধে
শতাব্দীর লক্ষ শবভার
খর্ব অধিকার নিয়ে নিরবধি
ফাঁকতালে নিরীহ সংহার।
.
দেশ আছে যথাস্থানে
আছে প্রেম কোনো সঙ্গোপনে
অপ্রকাশ সাধনমন্ত্রবলে।
ক্ষয়ে যায় মাটি আর ভিৎ
শুকোয় ধীরলয়ে অমৃতের ধারা
মত্ত তাণ্ডবে স্বর্গ ও নরকের
সীমারেখা মুছে দিল কারা?


----------------


১/
==
ঝরে গেলে আরো কিছু প্রবীণ পাতা
দেখা হবে একদিন আবার এখানে
হাতে করে এনো কিছু শস্যকণা,
অবিরল ধারা এনো এ মহাশ্রাবণে।

২/
==
পূরীষ চেনেনি আজো অর্বাচীন তরু
মন্ত্রমুগ্ধ বারম্বার নিজ অবয়বে
স্বপ্নসম্ভব আয়ুষ্কালে ত্যক্ত বর্ণভেদ
স্থাণু কলা-কৌশলী নিত্য কলরবে।
৩/
==
বাক্য আর হবে না রচনা
অতঃপর ভাষাহীন আলাপ অপার
ব্যস্ত বড়ো? তাও ভালো;
বুঝে নেবো অন্তর্গত সুগোপন সার।
৪/
==
ছেঁড়া ঝুলি থেকে পড়ে গেছে সব;
সুতরাং সবই আজ ঠেকে শেখা
পিছু ফিরে অভ্যাসে দেখি বারবার
যদি পাই ‘ধেয়ানের আলোকরেখা’।

---------------------------


১/
==
চক্ষুকর্ণের অবিরাম বিবাদের মাঝে
হৃদয়টি গেয়ে ওঠে অন্য এক সুর
প্রত্যন্ত দেশে ক্ষুদ্র শাখা জুড়ে এ কী
মৌন সুরে আজ হৃদয় বিধুর।

২/
==
তবে কি থেকে যাবো এখানেই জড়বৎ
ক্রীতদাস হয়ে মাধ্যাকর্ষণের মায়ায়
স্থূল হতে স্থূলতর চালু ব্রহ্মজ্ঞানে
রেখেছো গোপনে বুঝি সমগ্র উপায়।
৩/
==
বোঝোনি কি আজো পরিযায়ী সখা
কখন গুটোতে হয় অভিলাষী জাল
প্রথা ভেঙে ছিঁড়েছো শৃঙ্খল,
রাজা আজ তুমি; তুমিই মহাকাল।
৪/
==
শুনেছি সাম্যের অপরূপ কথা,
মেতে গেছি যথারীতি বর্ষবরণে
হাহাকারে হয়ে যাই নিপাট বধির
দ্রোহী প্রাণ শুধু পাপ গোণে।

---------------------------

১/
==
প্রগাঢ় বিশ্বাসে আজো ধরে আছো
বেনামী কথকের বিচিত্র বাণী!
কি লাভ হলো আজ বলো এতসব
ওলটপালট, গ্যাঁজানো কাহিনী!

২/
==
ভস্ম মেখে রয়েছো যুগ যুগ ধরে
পিশাচসিদ্ধির তন্ময় ধ্যানে
মন্ত্রপূত বায়ূ বুলিয়েছে হাত
সংসার ফেঁসেছে দেখ কুহকের তানে।
৩/
==
প্রতিদিনে বেড়েছে খানিক বিচিত্র
প্রস্তাবে; আধুনিক শুদ্ধ পাঠ্যক্রম,
তৈলাধার পাত্র না পাত্রাধার তৈল;
মীমাংসাটি হবেই চরম!
৪/
==
বাক্যটি রসপূর্ণ হবে একদিন
ধুয়ে মুছে যাবে অবাঞ্ছিত কথা
স্থান, কাল, পাত্র ভেদে তবু
স্মৃতি হয়ে র’বে দুটি ব্যথা।

------------------------


একটি গুরুত্বহীন গল্প বা কবিতা বা প্রবন্ধ বা ......
==============================
..........একুশে আইনের দেশে একদা চালুপ্রসাদ ব্যাদ্দব নামে একটি রেলমন্ত্রী ছিল। অল্পসংখ্যক, ‘সেকুলারিজম’, সামাজিক ন্যায়, দরিদ্র এবং পিছ্‌ড়ে বর্গের চিন্তায় অহর্নিশ সে মাথা ঘামাইত এবং সম্ভবতঃ রাত্রিতে ঘুমাইতে পারিত না। কিন্তু ইহাতে তাহার একটি দর্শনীয় নধর বপু এবং বিপুল সম্পত্তি অর্জন করিবার পথে বিশেষ অন্তরায় সৃষ্টি হয় নাই। মস্তিষ্কজাত বিস্তর পূরীষ ব্যয় করিয়া সে ভারতীয় রেলে ‘গরীব রথ’ নামক আদ্যোপান্ত বাতানুকুল একটি ট্রেনের সংযোজন ঘটাইল। বিষয় কি? না, উদ্দেশ্য মহৎ; দেশের গরীব জনগণ বাতানুকুল শকটে চড়িয়া দেশের দিগ্বিদিকে ঘুরিয়া বেড়াইবে !!
..........এই ট্রেনের টিকিট কাটিবার সময় বুঝিলাম যে ইহা ধনী, দরিদ্র সকলের নিকটই উন্মুক্ত; গরীব হইবার কোন দায় ইহাতে সন্নিবিষ্ট নহে। আজ একজন যাত্রীকে সেই ট্রেনে উঠাইতে গিয়া তাহাতে একটিও গরীব আবিষ্কার করিতে সক্ষম হইলাম না। আমি যাঁহাকে ছাড়িতে গিয়াছিলাম তিনিও প্রাপ্তবয়স্ক হইবার পর জীবনে এই প্রথম ট্রেনে চাপিলেন কারন সচরাচর বিমানযোগে ভ্রমণেই তাঁহার আস্থা বেশী। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াইয়া এইসব সাত-পাঁচ ভাবিতে ভাবিতে সহসা এক নতুন দিগন্তের উদ্ভাস অনুভব করিলাম। বস্তুতঃ চালুপ্রসাদ ব্যতিক্রমী কিছুই করে নাই; বদ্ধমূল পরম্পরাটিকেই সে কিঞ্চিৎ অগ্রসর করাইয়াছে মাত্র। এই দেশে গরীবের কল্যানে যত প্রকল্পের ঘোষনা হয়, তাহার সিংহভাগ সুবিধা ও লাভ অ-গরীব, না-গরীব ব্যক্তিবর্গই উপভোগ করিয়া থাকেন। দরিদ্রকল্যাণে ব্রতী স্বেচ্ছা বা কেচ্ছাসেবীগণও সাধারণতঃ লিচু ফুলিয়া কাঁঠাল হইয়া থাকেন। তবে এইসব যোজনার কর্মযজ্ঞে ‘গরীব’, ‘দলিত’, ‘সংখ্যালঘু’, ‘অচ্ছুৎ’ ইত্যাদি শব্দের সন্নিবেশে সামাজিক ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধ একটি কল্যাণকারী শাসনব্যবস্থার ভাবমূর্তি নির্মাণ হয়; অপরদিকে বোতলের ঘি দেখিতে দেখিতে ‘গরীব’গণ আঙুল চাটিয়া দুইটাকা কেজির চাউলের ভাত দিয়া ভোজনপর্ব সমাধা করে এবং তদনন্তর সম্ভবতঃ (এই কারনে নিশ্চিত নহি যে আমি ‘গরীব’ নহি) ঘৃতচর্চিত পলান্নের উদ্গার তুলিয়া সুখস্বপ্নসংকুল নিদ্রায় ব্যাপৃত হয়!!
..........ধন্য হে ‘ড্যামোক্রেজি’ !!


------------------------------------------------


              ভাষা
================
বুঝিনি সে ভাষা কোনোদিন
যার অন্তঃস্থল থেকে ভেসে আসে
গরমমশলার উদ্ধত ঢেঁকুর।
উল্লাসে মুক্তকচ্ছ হতে পারে কিছু
চিরসদালাপী কিলের গোঁসাই;
বা বুভুক্ষু সর্বহারা, বাধিত আতুর।
ত্রাণ নেই রহস্যের এ বিধানে
মৃত্যু খুঁজেও পথহারা ওষ্ঠাগত প্রাণ
আজীবন লাঞ্ছিত ত্রিশঙ্কু, লাচার।
খেপে খেপে নীতিবাক্যময় বিছুটির
জ্বালা আর ক্ষতস্থানে মোক্ষম নুন
সময়টি বরাভয় বা শস্ত্র বাছার।
নির্বাক দর্শক ও শ্রোতা একমনে
ব্যস্ত কোন অজ্ঞাত হিসেবের কাজে
উলটে গেলেও সর্ববিধ মানবিক পাশা।
অভিশাপে আর ধার নেই ইদানিং
কৃষ্ণগহ্বরের সর্বনাশা নিয়তির ফাঁদে
কোনোদিনই বুঝিনি সে ভাষা।
    
 --------------------------------

       ।।অনন্তশয্যা।।
==================
কত যুগ ধরে দেখিনি তোমায়
ফিরে এসো নাহয় আজ
হে বান্ধব, যদি চাও আন্তরিক
ভগ্নদূত রূপে; বয়ে নিয়ে এসো
সমূহ ধ্বংসের আগাম সংবাদ,
ভবিষ্যৎহীন ভবিষ্যতের কথা
নতজানু হয়ে সব সয়ে নেবো
আকালের আগুন আর কথকতা।
.
ভীত নয় কেউ শিশিরবিন্দুর ভয়ে
অনন্তশয্যায় নাগরিক, মন্ত্রমুগ্ধ নিশায়
সম্ভ্রম ভেসে গেছে অনবধানে, নিয়ে
গেছে সাথে বিহিত উপার্জন।
নিবিড় প্রয়াসেও ব্যর্থ পেশাদারী
মন্ত্রগুপ্তির ভ্রষ্ট আর ক্রূর সঞ্চালনে
দৃষ্টিহীন পথহারা আবাল্য সুহৃদ
ঠিকানার সর্বশেষ বিষাদগহনে।
.
হস্তান্তর হয়ে গেছে যাবতীয় দায়,
স্নেহ আর স্বাভাবিক মোহ
পাতালপ্রবেশের ঠিক আগে আগে
শতবার সেধে রাখা বিদায়বাণী
ধ্বসে গেছে সভ্যতার স্তুপ
ছত্রভঙ্গ যাবতীয় সাজানো ঘুঁটি
প্রসাধন ধুয়ে গেলে কুশীলব
মুছে ফেলে তাবৎ ভ্রুকুটি।



-----------------------------

  শ্রেণীটি দ্বিতীয়.....
=============
শ্রেণীটি দ্বিতীয় যদিও
তুমি নাকি পূর্ণ নাগরিক
এমনটিই বলেছে সবাই
নিশ্চিন্তে ঘুমোয় যারা নিরবধি
স্বাস্থ্যচিন্তায় বিশদ আকুল
আঁতিপাতি খোঁজে মৃতদেহে;
কোথায় সে প্রাণঘাতী হুল!
.
অশান্ত বসতির প্রতিটি দেয়ালে
নিয়মিত তারা ঘুঁটে দিয়ে যায়
গভীর নিষ্ঠায়। এভাবেই
বহতা সংস্কারের প্রতিবাদ
নান্দনিক পূজো উপচার
নির্বাসিত ধর্মরাজ্য থেকে
ঢেঁকি গিলে ইষ্ট প্রতিহার।
.
ঘাম হয় ঘনঘন তার
রন্ধ্রে রন্ধ্রে তবু থাকে জ্বর;
অপদেবতার দুরারোগ্য দৃষ্টিক্ষেপে
প্রার্থনার অভ্যাসগীতি:
‘প্রভু আমার, হে আমার প্রিয়,
সকলি দিয়েছো জীবনে;
শুধুমাত্র শ্রেণীটি দ্বিতীয়’।


--------------------

*
একটি কাঙ্খিত প্রতিধ্বনির আশায়
দাঁড় টেনে টেনে যাওয়া অবিরাম
তারই ফাঁকে ঘরকন্না; সতর্ক বয়ান।
**
ক্রমাৎ দীর্ঘতর কৃষ্ণকায় ছায়ার
অট্টহাসে কেঁপে ওঠে ক্ষীণজীবি কায়া
তবু চায় স্বীকৃতি বা মৃদু প্রতিদান।
***
থেমে গেছে শীতল শোণিতে
উচ্ছাসী জোয়ার বা বিষণ্ণ ভাটা;
সম্ভাবনা খুঁজে ফেরে পাললিক ধরা।
****
অধিকৃত রসনায় তিক্ত কটু, স্বাদ;
অবাঞ্ছিত রোষে ছেয়ে আক্রান্ত হৃদয়
প্রয়োজনে নিয়োজিত আত্মপ্রহরা।

--------------------------


*
যদি ফিরিয়ে দিতে পারো আজ
নিসর্গের হারানো অধিকার কিছু,
উল্টো ঘুরে যাবে সেই একমুখী চাকা।
**
ব্যর্থতায় হৃষ্ট এমন; বোকা
না সে প্রকৃত সেয়ান?
মগজটি সারবান কিম্বা বেমালুম ফাঁকা?
***.
লক্ষ্যহীন অপটু সন্তরণে
সশরীর যেতে পারি একা কতদূর
দরকারী নয় উত্তরটি জানা।
****
খুঁজে খুঁজে পরশপাথর
হন্যে হয়ে; জীর্ণ হলো যত পরিধান
আভরণহীন, হারালো ঠিকানা।

---------------------------

 ১/
স্বচ্ছ প্রতিদানে যদি দিতে পারো
মসৃণ দুটি শ্বেত চিত্রপট
বিসর্জন দেবো কলহের ঘড়া,
ধুয়ে দেবো কলঙ্কের তট।
.
২/
বিষাদঝুলিটি খুলো না এখানে
লোকেরা অন্য কিছু কিনুক
খুলে দেখো শুধু মাঝে মাঝে
মুক্তোসহ মাতৃমুখী ঝিনুক।
.
৩/
এক্ষুনি থেমে যেতে হবে
বলে গেছে কোনো একজন
বলেনি সি কোন রূপে ভোলে
শিখে ফেলা সিদ্ধি-সন্তরণ!
.
৪/
যৎকিঞ্চিৎ লজ্জা খুঁজে খুঁজে
পেরোলেন সাতটি সাগর
শূণ্য হাতে ফিরে এসে অতঃ
জমালেন ভূতের আসর!!


---------------------------

 ১/
একটি প্রকৃত মূর্খ খুঁজে পেলে
পেয়ে যেতে পারি সাবেক ঈশ্বর
সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবে ব্যসনের কথায়
উৎফুল্ল উপবাসী নষ্ট অন্তর।
২/
ছড়াক কিছু শুদ্ধ বাতাস
হেরে যাক মৃত্যুমুখী নেশা
শ্বাস ভরে আতুর হৃদয়
খুঁজে পাক প্রাণদায়ী পেশা।
৩/
ভাবি খুব সাবধান হয়ে, তবু
হৃদয়ে বেজে ওঠে হাস্যকর গীতি
কাজ ফুরোলেও থেকে যায় দায়
গরিষ্ঠ সাধারণ ঘন সম্প্রীতি।
৪/
ভেঙে গেলে মজবুত বাঁধ
গেল গেল রবে দশদিক ভাসে
রাজপাট পাঠিয়ে চুলোয়
জেগে উঠি সজীব সন্ত্রাসে।


--------------------------


*
গাঢ় কোলাহলে ঢেকে গেছে সব
তবু কান পেতে থাকি,নিয়ে আসে
বায়ূদূত যদি পথহারা কোনো বাণী।
**
কালের প্রহার সয়ে আছি এতকাল,
কোন অভিপ্রায়ে? বোঝো নি
তা কোনোদিন; হে সত্যসন্ধানী!
***
দাও তাকে সম্পদের অবিশ্বাস্য বর,
বিদ্ধ হোক বিবেকের দায়; ভরে
দাও সন্মোহনে সাজানো বাগান।
****
আনমনে থাকি প্রার্থনা বিনে অন্ধ,
মূক, বধির হয়ে; লতা-ফলে
ভরে ওঠে অনিচ্ছুক পীড়িত মাচান।


-------------------------------
 

*
প্রীতিকণার খোঁজে আকুল
হৃদয়ের অজ্ঞাত কোণে
কড়া নেড়ে যায় মোহমুদ্গর!
**
আক্ষেপে লালিত শস্যভূমি
যথারীতি জলসিঞ্চন শেষেও
অভিমানে হয়ে ওঠে তীব্র ঊষর।
***
তোমার অনুমতিতেই কদাচিৎ
দুয়েকটি সত্য কথা বলি
ঝেড়ে ফেলে প্রহারের সমূহ ভীতি।
****
ক্রীড়াচ্ছলে ছুঁড়ে ফেলি ন্যায়
লঘুক্রিয়া অগোচরে; ছত্রাকরূপে
বেড়ে চলে কায়িক সম্প্রীতি।

-------------------------------


 দেবতার রোষ
============
বসতির শপথনামার
গুপ্ত পথ ধরে অগোচরে
ক্রমাগত বেড়ে গেছে
গর্বিত আগাছার চাষ।
তাও সবই যেন আজো
ঠিকঠাক; রীতিসিদ্ধ নিয়মে
আবর্ত্তিত ঋতুচক্র বোঝে
সূক্ষ্ম এই স্পষ্ট পরিহাস।
বলে গেল তারা এসবই নাকি
জন্মেছে পূর্বজন্মের পাপ
আর কর্মফলে, চক্রবৃদ্ধি হারে
বেড়ে চলে দেবতার রোষ।
অপার বিস্মৃতি নিয়েও বুঝি
মুগ্ধতার দূরাতিক্রমণ
দুস্তর অভিরুচি ভেদেও ধরে
রেখো সুস্থ পরিতোষ।


---------------------


টুপটাপ ঝরে জল নড়ে দুটি পাতা
ধেয়ে আসে কবিকুল খুলে বসে খাতা।
ক্ষেপে ওঠে কবিজায়া রোষে নাড়ে নথ
কবি ভাবে নাই আর কোন ভবিষ্যৎ।
এমত প্রতিভা নারী বুঝিতে না পায়
কাব্য সাধনপথে হৈল অন্তরায়।


----------------------------

      বেঁচে থাকি
===============
ঘুরপথে আসি তবু এখানেই
দেখা হয়ে যায় বারবার
যেন খুব বুদ্ধিভরে কেউ
পেতেছিল অভ্রান্ত ফাঁদ
লক্ষ্যহীন অথচ শুভ কিছু
নৈসর্গিক প্রতিকারের আশায়।
.
জন্মদাগ ছুঁয়ে সন্তর্পনে চলি
নিদ্রাহীন প্রহরীর সাথে
বাক্যালাপে জমে ওঠে বেশ
সালঙ্কারা প্রতিমার অবয়ব
কখনো ভেসে ওঠে, কখনো মিলায়
বেঁচে থাকি একাধারে বিরহে ও প্রেমে।


-------------------------------


 
            পলাতক
 ==================

প্রতিবিম্বের সাথে আর কাঁহাতক
চলে ভাব কিম্বা মত বিনিময়
শত শত ঘটনার ক্রিয়া বলো
বা সমঘাতে বিপরীত কিছু
মাত্রাহীন অক্ষরের মতো অনাথ
হেঁকে যায় কারা শিরা ছিঁড়ে যেন
অনর্থের মূর্তিমান ভবঘুরে দূত
এরই মাঝে টের পাই কথা
নিজদেহে বিদ্রোহী কানাকানি
নিশ্চিত সমাধান পেতে চায় সবাই
আয়নাটি ভেঙেই অতঃপর
বুকভরে টেনে নিই নৈতিক শ্বাস
জন্মগত অধিকারবলে।
এভাবেই হতে থাকে সব
এভাবেই খুঁজে চলে অমৃত-সন্ততি
যুদ্ধের মহড়া শেষে জীবনের মানে।



-----------------------------------


*
সূচীভেদ্য সূক্ষ্ম রন্ধ্র দিয়ে
ঢুকে গেছে দুরারোগ্য পাপ
ঢিলেঢালা চলনটি বটে;
আবডালে প্রবল প্রতাপ!
**
কার ধার কে ধারে বলো?
অস্থির তবু কেন হতভাগা
আপনি বেঁচে বাপের নামে
চকচকে হিরণ্ময় শ্লাঘা!
***
দৃশ্যাতীত ধারাটির খোঁজে
জন্মভূমি হারিয়েছে বহুকাল
প্রতিকার চেয়ে পেয়ে গেছি
রক্তমুখী জটিল প্রবাল।
****
যদি চাও বলে যাও কিছু
প্রিয়বাক্যের সহজ ছন্দ দিয়ে
ছেঁকে নেবো মিশ্র প্রত্যাখ্যান
বাঁচা যাবে ইনিয়ে বিনিয়ে।

-------------------------


সুদিনের স্বপ্ন
=============
ইতস্ততঃ ব্যাপ্ত রচনাকে
বলো যদি অলীক কল্পনা
যায় আসে না কিছু আর,
জীবন বিলাসের অল্প অধিক
মর্মের প্রেমকথা ছাড়া
কই আর অন্য প্রতীক।

বিযুক্ত যেন হয়ো না এদিন
শস্য আহরণের সময়ে
কাছাকাছি থেকো নীরব
সমর্পণে তদ্গত ধ্যান,
সুদিনের স্বপ্নে ডুবে শান্ত নির্ঝর
অধ্যবসায় শেষেও ব্যর্থকাম
ছদ্মবেশী পালিত তস্কর।

-------------------------

       শিক্ষানবীশ
============
তাকে লেখা সব চিঠি
একে একে ফিরে আসে
প্রকৃত ঠিকানায়
মহাকাল পিওনের হাতে।

আবারো সাজিয়ে রাখা
এসব, কদাচিৎ খুলে দেখা
ফেলে আসা আত্মার খোঁজে
আয়নায় নিজ প্রতিচ্ছবি।
পৃথিবীর দোলাচল নেই
রহস্যহীন মৃদু বাতাস
বয়ে নিয়ে যায় চোরা ইঙ্গিত,
শব্দহীন বাক্যের বোঝা।
পরাবিদ্যা শেখার ছলে
শিক্ষানবীশী আজীবন
জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত হলে
বিস্ফারিত কৃষ্ণগহ্বর।

-----------------------



*
অস্থির জোয়ার ভাঁটায়
জেগে ওঠে শোণিতের ধারা
ভূমিকার বহ্বারম্ভ শেষে
পড়ে রয় শোক, তাপ, জরা।
.**
এসো না এ পথে বারবার
হ্রস্ব অভিযানের দুর্বার লোভে
দূর থেকে মেপেছো যার দৌড়
প্রতীক্ষা্য থেকেছে সে কবে!
.***
সম্ভান্ত কথার গোলকধাঁধায়
পালিয়েছে কাতর বিলাপ
রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়েছে জাল
রিপুদগ্ধ আশির ত্রিপাপ।

****
প্রিয়বাক্য বলা শেষ হলো
করোনাকো আর হাহারব
আকালের সঞ্চিত বিভূতিতে
এর বেশী আর নয় সম্ভব।

--------------------------


১/
==
ডেকে যাও একমনে বারবার
না আসুক কারো কোনো সাড়া
বরাভয় মুদ্রার জোরে
বাঁকা তো ছিল না শিরদাঁড়া।

২/
==
জমিন আর আসমান নিয়ে
ভুলে গেছি তাবৎ বিভেদ
চক্রবৎ পরিবর্তন্তে
কুরান, পুরাণ কিম্বা বেদ!!
৩/
==
সবদিকে সাঁজোসাঁজো রব
বিদ্রোহের স্পষ্ট আওয়াজ
জীবনটি তরী নয় আর
স্বেচ্ছায় হয়েছে জাহাজ।
৪/
==
বিশ্বস্ত সাক্ষী নেই কোনো
আছে শুধু তমসার জাল
নীরবেই থাকা ভালো
ভাবা ভালো আকাশ পাতাল।

----------------------------------

*
এমনই ছিল প্রত্যাশিত
ব্যাঙাচির প্রেয় রূপান্তর
ষড়যন্ত্রের গন্ধে তবু
বিবমিষা, পীড়িত উদর!
**
মাঝেমাঝে এখানে এসো
নির্বাচনী প্রতীকবিহীন,
কথা হবে বিধিমত ক্রমে
সহাবস্থানে প্রতিদিন।
***
এ কোনো খেলা নয় প্রিয়,
শ্বসনের মরীয়া প্রয়াস
বাড়াবাড়ি মনে হয় কারো
দড় কঞ্চি ছুঁয়ে ফেলে বাঁশ।

------------------------

 .....ব্যাপ্ত শ্মশান.....
============
সিদ্ধির মুগ্ধতা ঘিরে
বেড়ে ওঠে হৃষ্ট পরগাছা
কে জানে কোথা আছে
এর সমাধান!
জাগতিক সব ক্রিয়া শেষে
পৃথিবীর ভবিষ্যৎ
দশদিক জুড়ে শুধু
ব্যাপ্ত শ্মশান?


---------------------



১/
==
কৃতার্থ করপুটে
গৌরবে বেঁচে থাকা
প্রার্থনার রীতিগত ভানে
আরো এঁটে বসে বাঁধন
শোক-তাপ আর অপমানে।

২/
==
বয়ে যায় বেলা
সম্মোহনের পূত আস্ফালনে
তবু যেন বাড়ে না বয়স
ফিরে ফিরে আসে ইতিহাস
খসে পড়ে নি্যুত খোলস।
৩/
==
আলাপের ফাঁকফোকরে
কবে যেন গলে গেছে চুপচাপ
অর্জিত মৃদু অধিকার
পর্ণমোচী স্বাধীন বৃক্ষরূপে
দেখ আজ রুদ্ধ সিংহদ্বার।
৪/
==
আরোপিত সূক্ষ্ম নির্বাসনে
গড়ে ওঠে ভিন্ন জগৎ,
গাছপালা আর ছিন্ন সংসার
মহিমার অপলাপ নেই
নেই কোনো দৈবী প্রচার।

----------------------



হে বুদ্ধির ঢেঁকিগণ
=============
তাহলে সব পথ
এখানেই এসে মিলে যায়
বারে বারে; তারপর
সার বেঁধে আসে
ভুরি ভুরি মতবাদ যত
ঘাপটি মেরে আরো কিছু ক্ষত
ঘোলাজলে প্রমাদে নিরত।

অতঃপর স্থানটিকে সোল্লাসে
তীর্থ বলি সবাই,
ক্রমে ক্রমে সবকিছু তার
পুষ্প হতে বিষ্ঠা তক
পবিত্র হতে থাকে
তৎপর ব্যবসার ফাঁকে ফাঁকে
চলমান উজ্জ্বল কুম্ভীপাকে।
তবে আছে আরো কিছু
হে বুদ্ধির ঢেঁকিগণ,
তোমাদের সূক্ষ্ম ঝুলিতে;
ক’টি অদ্যাপি গোপন পথ,
রপ্তানী শেষে মত দুই চার
মনে করে দেখো ঘুঘু আর
কবে শেষ গেছে কারাগার!

-------------------------

      প্রজ্ঞার শেষে
================
সয়ে যায় অবশেষে সবকিছু
জমে থাকা নিহিত বিশ্বাসে
কুসুমের অন্তরে নিদ্রিত কীট
মৃত্যুহীন স্থায়ী বসবাসে।

মুক্ত, অবাধ, সামান্য জীবন
পিছু তার তবু হাঁটে কারাগার
দায়সারা ভুলভাল আলাপের ফাঁকে
হঠাৎ বেজে ওঠে বসন্তবাহার।
একদিন শেষ হবে রাতজাগা
নতজানু অভ্যাসের প্রতিশ্রুত দাস
রন্ধ্রে রন্ধ্রে মহড়া আড়ালে
মৃত্যুর দূত আর জীবন-সন্ত্রাস।
সহজাত ক্রমে প্রজ্ঞার শেষে
কি থাকে আর সন্ন্যাস বিনে
চক্রাকার ঋতুর ঘুর্ণনে অবিরাম
অপমূল্যে সবই নিয়েছো কিনে।

-------------------------------

     সত্য লুকোও
=============
গোড়াতেই নাকি ছিল
দুরারোগ্য অযুত গলদ
ধর্মের ষাঁড় থেকে ক্রমে
হলো তাই কলুর বলদ।

নিঃশব্দ বারিধারাপাতে
শুনেছি স্পষ্ট পদধ্বনি
ফেরারী আস্থার খোঁজে
খুঁড়ে ফিরি আনকোরা খনি।
শতমুখে বলে গেল তারা
শতাধিক সাম্যের কথা
অজাযুদ্ধে বা ঋষিশ্রাদ্ধে
বাতেলা ও কিছু কথকতা।
সত্য লুকোও কোথাও
এনো নাকো আলোর সদরে
ঘরকন্না সেভাবেই চলুক
জীবনও যাক বিলাসী সফরে।

----------------------------


.......হে জবাকুসুম......
==============
সাঁকোটি নাড়িয়ে উধাও
ক্ষেপে গেছে অনাদি পাগল
বোঝাও কি বোঝাবে তাকে
পারো যদি শুধাও কুশল!

চর্মচক্ষে দেখেছি বহুকাল
সাক্ষীরূপে গাত্রদাহ ঘোর
পিপীলিকা পক্ষীরাজ হলে
একই পথে সাধু এবং চোর!
এখনো পথ চেয়ে আছে
অগোছালো জীর্ণ অঙ্গবাস
ঘটেনি কিছুই কোনোদিন
অকারণ, বিনা অভিলাষ।
শুভদিনে ইচ্ছে হলে চেয়ো
মুখ তুলে, হে জবাকুসুম!
নেই জানি কোনো গূঢ় কথা
দৃশ্য হবে তবু কল্পদ্রুম।
দুরূহ বাসনার ব্যস্ত কৃষিকাজ
অনাহূত সশরীর কোন বিচ্ছেদ
কবিতার শব ব্যবচ্ছেদে
অন্তর্গত লীলাচ্ছলে জটিল উদ্ভেদ।

---------------------------------

..........যুদ্ধের কথা..........
================
অসমযুদ্ধে ব্যস্ত দুই কূল
নদীটি বয়ে যায় তারই মাঝে
নিরবধি প্রেমে বা সংশয়ে।
অকারণ তবু মুখ ফিরিয়ে
দুজন বসে থাকে দুই কূলে;
গত্যন্তরহীন সাপ আর নেউল
কিম্বা আদা আর কাঁচকলার মতো
প্রতিবদ্ধ নৈসর্গিক শত্রুতায়
অহরহ যুযুধান অসহ যাপন
ওষ্ঠাগত প্রাণে খাঁচা ও পাখী
ঠাঁইহারা স্থায়ী নির্বাসনে
হননের আজন্ম দায়ে সর্বস্ব
ব্যয় হলো বৃথা কালক্ষয়ে;
নদীটি বয়ে যায় একা
নিরবধি ভ্রমে বা বিপুল প্রত্যয়ে।


----------------------------

........আনমনে এসো........
=================
দৃষ্টি ঘুরে গেছে অন্য কোথাও
আশাহত প্রাণ তবু যেন
প্রতীক্ষায় প্রহর গোনে।
যদি কোনো দৈব ভুলক্রমে
ঠিকঠাক রাশ তুলে নেয়
সে, অসময়ে অনুপূঙ্খ মেপে।
বিধিমত সাক্ষীসাবুদ থাক
বরং গড়াক আরো কিছু জল
ধাতব শব্দের ফাঁকে।
সামলে রাখো পুরাতন যত
ক্ষতচিহ্ন আর কলঙ্কিত গ্লানি
মহীয়ান হয়ে ওঠো অবসরে।
অবশিষ্ট ছিল কিছু প্রাণ
দেহে তাই আশ্রিত শৈবাল
প্রতিশ্রুত দূষণ মোচনে।
দূর হলে যাবতীয় পাপ
বর্ণহীন, বিস্বাদ সহজ যাপনে
একবার কাছে এসো আনমনে।

------------------------------

 ভাবিনি কখনো।
===========
উদরের প্রেরণায়
কতদূর চলে যেতে পারি, ভাবিনি কখনো।
আত্মার আবাহনে
থেমে যেতে হয় কোথা, ভাবিনি কখনো।
হোক না সে বিষবৃক্ষ
তবু নিতে পারি প্রাণ? ভাবিনি কখনো।
সুর কেটে গেলে
গান ছেড়ে দিতে হয়? ভাবিনি কখনো।
পাতা ঝরে গেলে
জল দেবো কি না গাছে, ভাবিনি কখনো।
কররেখায়ই ভাগ্য শুধু?
কাটা হাতে নেই ভবিষ্যৎ? ভাবিনি কখনো।
ভাবের জমিতে সার
জৈবিক বা রাসায়নিক ভালো, ভাবিনি কখনো।
অধঃপাতে যাবার অবাধ
প্রতিযোগে কেন লড়ি আজীবন, ভাবিনি কখনো
কেন বলেছিল তারা
‘ভাবা ভালো নয়’, ভাবিনি কখনো।


---------------------------------


১/
==
নখদন্তের প্রেরণার জোরে
লড়ে গেছি কেন এতকাল;
ভুলে গেছি নানা প্রতিঘাতে।
অঙ্কুরিত কূট বীজ দেখে
জীর্ণ হলো মানবীয় খোলস
লক্ষ্যভেদী আলোকসম্পাতে।

২/
==
মনুষ্যজন্মের গৌরবগাথা
অপমানের নিদারূণ দিনে
মাঝে মাঝে মনে পড়ে যায়।
পথহারা নিঃস্ব পরভৃৎ
জ্ঞানের কায়াকল্পরূপে
বেড়ে ওঠে আরো অন্তরায় !!
৩/
==
অন্তিম প্রযুক্তির পরও থাকে
নিহিত সমস্যার কথা বা
দুরাত্মার জন্মগত ছল
কি করি এই কারুকাজ নিয়ে?
জাদুঘর গড়ি নি, দায়হীন
সুখে শুধু হেসেছি অনর্গল।

-----------------------------



*
খিচুড়ি রেঁধেছে জগা
এসো মিলে খাই ভাগ করে
বাঘে-ছাগে যদি যায় জমে
কি কাজ আর সন্মুখ সমরে!
**
দুটি কথা বলো তার কানে
ভেঙে যাবে দুর্লঙ্ঘ্য প্রাচীর
শিখে নেয়া ভাষা রুদ্ধ হলে
সংযত হবে প্রাণঘাতী তীর।
***
রূপ ছিল ঠিক
ছিল আরো সুগভীর কূপ
পূতপুষ্প, গন্ধ সমাহারে
আবহটি হয়ে আছে চুপ।


 -------------------------
 
........।।অন্যায়।।..........
================
জীবনমরণ ধর্মযুদ্ধে কিংবা
প্রণয়ের বেপরোয়া রোষে
অন্যায় বলে কিছু নেই।
ধর্মযুগের সফল প্রস্থাপনে
অন্যায় করেনি’কো কেউ।

মাঝামাঝি থাকে না কিছু
যুদ্ধ আর প্রেমের অন্তরে।
ডিঙিটি ভেড়াবে কোথায়
কোন সেই অচিন বন্দরে?
অস্থিচর্ম ছেড়ে যেতে চায়
অনশন শেষে কোন প্রাণ?
সামলে রেখো হে, মানব
জনমের শেষ অভিজ্ঞান।

--------------------------

 
১/
==
হৃদয়ের অপচিত কথা
হতো যদি জৈবিক সার
সিদ্ধ কোনো শুদ্ধ মন্ত্র পড়ে;
ফুটে যেতো দু-একটি ফুল
প্রহরার শিথিল ফোকরে।

২/
==
ঐতিহাসিক লিপ্সার জেরে
ক্রম অনুসারে বেড়ে যায়
স্মৃতিস্তম্ভের ভীড়,
প্রণামশেষে রিক্ত কাঙাল
খুঁজে পায় গুটিকয় তীর।
৩/
==
নাম জানা ছিল না তার
তবু প্রার্থনায় ভেসে ওঠে
তারই মুখ খালি,
সুতরাং স্ফীতকায় হলো
ভ্রমের সাধন পাঁচালি!

-------------------------

 *
এতসব প্রতিবাদী ভাষা
ততোধিক ক্রুদ্ধ বাহুবল
মূকমুখে বাক্য ফোটাও
আসমুদ্র প্রীত হিমাচল।
**
মুখে মুখে জনহিত কথা
অন্তর্গত অনির্বাণ দহন
বাকসিদ্ধি লাভ হলে আজ
ইতিহাস হতো ভারবহন।
***
অতীতের বোঝাটি নামাও
এই তীর্থে বসো কিছুকাল
পত্রপুষ্পে ডালটি ভরুক
সঙ্গীত ফিরে পাক তাল।
****
বলো না কথাটি তাকে
যার হাতে ন্যায়দণ্ড ঝোলে
পূজো তার প্রাপ্য নয় জেনো
মালাটি স্বয়ং যে ঝুলিয়েছে গলে।


-------------------


...।।শোধবোধ।।....
============
সঙ্কটের বিভীষিকায়
ফিরে ফিরে আসে প্রাচীন বিশ্বাস।
কানাকানি মর্মকথা
চতুর জারিজুরি; সবই হবে ফাঁস।
শব্দের হৃদয় জুড়ে
জন্মায় অবিরাম শব্দেরই নব পরিভাষা
বুঝে নিলে যথাযথ
উল্টোবে যান্ত্রিক প্রাচীন পাশা।
সয়ে যাবো ততদিন
খেলাছলে মনোগত প্রতিবাদ; যত অবরোধ
অপাপ সুবাস মেখে
সুদিনের ভোরে হবে চিরতরে সব শোধবোধ।


----------------------------------


......।। কালজয়ী ঘানি ।।.....
==================
অগণন বাক্যের গোলকধাঁধায়
ওষ্ঠাগত ক্ষীণজীবি প্রাণ
বন্যায় তলানো ভূমি মেপে
কি জানি কি হয়েছে প্রমাণ!

এই ফাঁকে ঘোরে কিছু আরো
বেয়াদপ সময়ের চাকা
তারই মাঝে কেরামতি ছলে
শাক দিয়ে মাছটাছ ঢাকা।
দিনপাত কত ‘ডেসিবেল’এ?
কতটুকু হলো তাতে হানি?
আজন্ম অভ্যাসে সয় ধর্মরূপী
সু-চিকণ কালজয়ী ঘানি!

-------------------


....।।আরো দাও প্রাণ।।....
================
জন্মাবধি এই অস্থির যাপন
তবু খুঁজে ফিরি মুস্কিল আসান,
পদ্মপাতার জলবিন্দুতেও বুঝি
থাকে কিছু যাদুকরী ব্যস্ত সমাধান।

ছড়িয়েছে উদার দুহাত ভরে
নগরীতে জঞ্জাল, বানিয়েছে স্তুপ!
অমৃতের পুত্র-পুত্রীগণ খোঁজে আজ
মানে-বই বা কিছু অনুরূপ।
দুটি পারাবত আলসে উড়ে গেলে
ধড়ফড় করে ওঠে ওষ্ঠাগত প্রাণ,
ক্ষয়ে গেলে রসনার মর্মঘাতী ধার
বোঝাটি হবেই হবে পর্বতপ্রমাণ।
অসম বিনিময়বিধি নিয়ে থামে
তবে বাণিজ্যের বেগবান ধারা!
মোটটি নামাও তবে এইবেলা
তুলে নাও তাবৎ পাহারা।
নাভিশ্বাস উঠে গেলে ক্রমে
জেগে ওঠে সন্নিহিত জ্ঞান
অবশেষে ডেকে বলি ‘প্রভু, মোরে
আরো আরো আরো দাও প্রাণ’।

-----------------------------
 
১/
==
শুধিও না কিছু তারে
বরং হাতটি লাগাও এদিনে
ধাক্কা দাও, দাও কিছু বল
পথ করে দিতে পারে
জগদ্দল নিরেট পাথর
ততটা সহজ নয় এ সময়ে
দীর্ঘ উপবাসে, ক্ষুৎপিপাসায়
হয়ে আছো বিষম কাতর।

২/
==
অগোচরে বেড়েছে অবাধ
পরগাছা গুণোত্তর ক্রমে
দুষ্ট গরুকে ছেড়ে আজ
ছেয়ে গেছে নবীন প্রবাদ।
হতাহতের সংখ্যা গুনে ভাই
হারিয়েছি স্মৃতিতে বিশ্বাস
অট্টালিকার ফাঁকে যদি পারো
বেঁচে থাকো বাছা, বনসাই।

--------------------------


*
জীর্ণ বাস ধারণেও হলো
মোক্ষলাভ অন্যতর সুখে
অনাবিল স্বচ্ছ ভরসায়
এইখানে এই নরলোকে।
**
শতাব্দীর রুদ্ধ কত কথা
ভাষা পায় তপ্ত নিঃশ্বাসে
বিষকুম্ভ মন্থন শেষে
নির্ভীক অমল উচ্ছাসে।
***
জাগিও না নিদ্রিত দুরাশা
প্রতিষ্ঠিত দাস ব্যবসায়ী
অশ্বডিম্বের স্বাভাবিক বিদারে
নিশ্চিন্ত উদাস পরিযায়ী।
****
ভোর হবে আশায় আজো
পরেনি সে শেষ রণসাজ
এ কথাটি মনে রেখো হে
সুধীগণ, সভ্য সমাজ।

-----------------------
 
*
বিক্রয়ের মরশুমী মেলায়
দরহ্রাস অভাবিত হারে
ওষ্ঠাগত ভাষাহারা প্রাণ
শ্বাসরোধী বাক্যের ধারে।
**
আসে দিন যায় দিন
পুষ্টিহীন শীর্ণ কলেবর
শ্লোগানের বর্ষণ শেষে
রোদও আজ তীব্র, প্রখর।
***
আসবাবে ভরে গেছে
শূন্যের মায়াভরা ঘর
ইতিউতি উঁকি মেরে খুসী
অতীতের নৃশংস বর্বর।
****
পাদপের বিমূর্ত ভাষা, অচিন
তরঙ্গে সুর প্রকৃতির গীতি
সাড়া দিও প্রভাতের আমন্ত্রণে;
জীবনেই স্থাপিত প্রতীতি।

-------------------

১/
==
যদি চাও দিতে পারো আজ
নিবিড় স্পর্শ কিম্বা ভুগর্ভের
গোপন স্বচ্ছ জল, রসায়ন
রহস্যের সুরচিত আড়ালে
জেগে যাবে বঞ্চিত প্রাণ
নির্ধারিত অবসানে পূর্ণ গ্রহণ।

২/
==
নির্বিকার উদাস দার্শনিক
একমনে চিবোলে তরতাজা পাতা
ভেবো না তাকে পাঁঠাটি বলির
সেনাদল ধরাচূড়ো ফেলে
লড়াইয়ে পেছপা হলে জেনো
নির্ঘাৎ লক্ষণ বটে এ ঘোর কলির !

-------------------------------

*
সময়ের নির্যাস খুঁজে দেখো
কোথাও নেই শুদ্ধ পরাজয়
একাকার সুখ-দুখ মিলে
আক্ষেপেই প্রকৃত অপচয়।
.**
লক্ষ্যহীন দু-একটি রেখায়
কলঙ্কিত আনকোরা পাতা
তরঙ্গের স্থূল অভিঘাতে
ব্যর্থ নয় সূক্ষ্ম নীরবতা।
***
কে চিনেছে বলো তাকে
হাতে যার জিয়নকাঠি
শিক্ষা মানে চুষে যাওয়া
নিরন্তর শাঁস ছেড়ে আঁটি?
.
****
শূন্যগর্ভ বিশ্বাসের মায়া
প্রত্যাশার স্থূল আচ্ছাদনে
তৃণ হলে মহীরূহ যথা
গীত আর নেই কানু বিনে!

---------------------


..।।অন্তর্গত মানে।।..
=============
তাবৎ কাঙ্খিত সুবাস
ভুলপথে কেড়ে নিয়ে যায়
প্রতিকূল, বিপরীত বায়ূ
ত্রিলোক জুড়ে জাগে
দীর্ঘশ্বাসে ত্রস্ত হাহাকার,
ক্ষয়ে যায় প্রদীপের আয়ু।
ভাবনার অগোচরে তবু
কেন জেগে ওঠে একা
ভাষাহারা অনুগত সুরে
জৈবিক মেধা অন্বেষণে
সঙ্গীহারা আদি মহাপ্রাণ
বার্তা দেয় নবীন অঙ্কুরে।
প্রাণ পেয়ে ছেড়ে আসি
মৃত্যুর অমোঘ দুয়ার
আস্থার প্রগাঢ় আহ্বানে
যে শুনেছে গভীর সে বাণী
সেই শুধু অন্তর্গত জানে
খানাখন্দময় পথের মানে।


-------------------------

 ........।।ধর্মযুদ্ধ শেষে।।...........
====================
ধর্মযুদ্ধ সাঙ্গ হলে অন্ততঃ একবার
খুলে ফেলো অবধ্য মুখোস
ছায়া ছেড়ে ধরে নিলে কায়া
দর্শনে নিশ্চিত পাবো অশেষ সন্তোষ।
চিনেছি কি তাকে কোনোদিন
যুগে যুগে ধরেছে যে ভিন্ন অবয়ব?
দিশেহারা বেঁচে থেকে বলো
নির্বিকল্প সমাধি কোন মতে সম্ভব?
ঘুরপথে হাঁটা শিখেছি বহুকাল
রক্তে তবু নেমে আসে লোহিতকণা
ব্যথায় ঊষর হলো উর্বর ভূমি
আবাদেই ফলে যেতো খাদহীন সোনা।
বিদীর্ণ বক্ষ, তবু ক্ষীণ আশা নিয়ে
রাতভর জেগে থাকে শোকাতুর মাতা
প্রস্থাপিত বিপর্যয় শেষে বারম্বার
রক্ষীকুল মেলে ধরে হিসেবের খাতা।
দিনগত পাপক্ষয়ে রুদ্ধ জীবন
খুঁজে চলে দৈবকৃপা নিরন্তর
মায়ের করোটি বেয়ে নামে রক্তধারা
কেটে যায় আরেকটি প্রহর।


-------------------------


............।।নিরাময়।।..............
====================
ব্যাঙাচির অস্থায়ী ল্যাজ খসে গেলে
জেগে উঠি একবার নব অভিপ্রায়ে
ধ্বস্ত হলে অন্তিম হর্ম্য নাগরিক
ভালোবাসা পরিণত নৈসর্গিক দায়ে।

বিপন্ন সময় জুড়ে হাহাকার এত
তারই মাঝে কে বাড়ালে অভয়ের হাত
অবিশ্বাসে ছেয়ে গেলে ধূসর আকাশ
বৃষ্টির রূপ ধরে নামে অভিসম্পাত।
প্রত্যাশা ছিল না অবশেষ কিছু
অনাহূত উঁকি দেয় শ্বেত নিরাময়
বিশ্বাস ফিরে এলে সামূহিক নিবন্ধে
হিসেব কে করে আর জয়-পরাজয়!

--------------------------------

১/
==
ধেয়ে আসে কালবৈশাখী
অজ্ঞাত সীমাহীন ক্রোধে
জীবনের সাধনার শুরু
দক্ষতায় আর প্রতিরোধে।
২/
==
সন্তর্পণে উঠেছিল ফুটে
শতাব্দীর আদৃত কুসুম
জলভরা মেঘ দেখে দেখে
নেমে আসে চোখজুড়ে ঘুম।
৩/
==
কেটেছে বহুযুগ অজ্ঞাতবাসে
বাঙ্মানসের ত্রস্ত জড়তায়
কালচক্র ঘুরে গেছে আরো
স্বরূপটিই মূখ্য অন্তরায়।
৪/
==
আরাধ্য ছিলেন তিনিই একা
ইতস্ততঃ ছিল না আর কেউ
সুধাসাগরের তীরে নিরবধি
সঙ্গী ছিল বার্তাবাহী ঢেউ।


----------------------
 
১/
==
স্বপ্নের ঘোরে কাটে দিন
অকৃতজ্ঞ বিভ্রমে জন্মাবধি
দিয়েছো দৈবী আবেশ
থেমে গেলে শেষতক ঝড়
ঝুলিটি হাতড়ে দেখো যদি
খুঁজে পাও কোনো অবশেষ।

২/
==
বাক্য সংবরণ করো আজ
অনবধানে দিও না কোনো
শোচনীয় গুরু অভিশাপ
বাকসিদ্ধি নেই জানি তবু
দীর্ণ হতে পারে অপাপ হৃদয়
হারালে বিশ্বাসের সরল উত্তাপ।

-----------------------------
…..ফিরিয়ে আনো…..
==============
অবশেষে থেকে যাবে
মাত্র ক’টি অদাহ্য সংখ্যা
যাবতীয় তত্ব, স্বত্ব, ইতিহাস
মুছে গেলে বরাবরের মতো
আপন বা পর সংজ্ঞা তখন
রোপিত সংঘর্ষে নির্ধারিত।

পেছন ফিরে বারবার
দেখতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছো
অগুন্তি শিকারীর সাথে
দৃশ্যপ্রমাদে কেটে গেছে তান
নৈসর্গিক অনাহত শোভা,
ঈশ্বরকোটির অকাট্য প্রমাণ।
দূষণে ছেয়েছে মনোভূমি
ত্যজ্য হবে এ বসতি চিরতরে
সম্বৎসর বহ্ন্যূৎসবে অমর চিতা
হৃদয়গগণ জুড়ে ভস্মের গীতি
মুক্ত করো এ বন্ধন শোনো আদিগান
ফিরিয়ে আনো তাড়ানো সম্প্রীতি।

--------------------------------

 .......।।অভিশাপ।।.........
================
প্রতিবদ্ধ সাধনায় খুঁজে খুঁজে
ছুঁই অহমিকা; সপ্তম
নরকের সুনিশ্চিত দ্বার
দূষণের রাজধানী
ঝলসালে মিথ্যে আলোকে
মরীচিকায় ভেসে ওঠে সার
মেকী জলোচ্ছাসে উচ্ছল
স্ফীতকায় শিক্ষার ফানুস
বদ্ধ বায়ূর নির্লজ্জ উল্লাসে
সম্মোহিত মরণোন্মুখ নির্দায়
দুর্মর গতিপথে আশাহারা
উত্তরপুরুষ প্রতি নিঃশ্বাসে
অরণ্যের অভিশাপে মারী
জাগে শোণিতের ধারা জুড়ে
পিশাচরাজ্য ছেড়ে যাও দূরে
সৃষ্টির খাস অন্তঃপুরে।


-------------------------------
 
১/
==
যদি কোনো পূত মন্ত্রবলে
জেগে ওঠে নারায়ণী সেনা
পাঁচ, সাত, দশ অক্ষৌহিনী
ফুৎকারে উড়ে পুড়ে যাবে
নিয়োজিত তাবৎ জঞ্জাল
ভবিষ্যৎ আশা প্রসবিনী।

২/
==
দীর্ঘ অনভ্যাসের ফলে একা
নির্বিকার দাঁড়িয়ে ঝিমোয়
মহাযুদ্ধের অভিজ্ঞ ঘোড়া
রণবাদ্য লুকিয়ে সাবধানে
নিরবধি প্রসাধন অন্তরাল
নিজেরই কবরটি খোঁড়া।

-----------------------

 *
খরবাণী মূলধনে ভেবেছিলে যাবে বহুদূর
ঝুলি খুলে দেখো আজ; হারিয়েছে ‘দিকশূন্যপুর’।
**
জমেছে অঢেল বিষাক্ত শর শেষ বিচারের আশায়
এমন বাজীই ধরেছিলে মহাশয়; আত্মঘাতী পাশায়!
***
ভালোই আসলে যদি, তবে কেন এত সাধাসাধি
কেন টের পাই দেহে আরোগ্যের অতীত ব্যাধি!
****
সাধ ছিল লিখে যাবো খয়রাতী সহজ বাণী
ছেড়ে দেবো আজন্ম পুষে রাখা যত কানাকানি।


---------------------------


১/
==
একটি মুকুল ঝরে যায় অসময়ে অকারণ
মনে রেখো বালক, শেখো বিজ্ঞ সন্তরণ।
২/
==
সফল জীবন তবু খুঁজে ফেরে শোভিত অন্তর
আজন্ম পরিক্রমা শেষে প্রাপ্য শুধু তমস গহ্বর?
৩/
==
প্রতিযোগ সয়ে রণসাজে বেড়ে ওঠে শিশু
কি লাভ যদি বলো তাকে; ‘মা ফলেষু’!
৪/
==
বেলাশেষে শোধবোধে হতে পারে সব সমাধান
শেষবার তবে লড়ো একহাত, ওহে সুমহান!


--------------------------------

১/
==
যায় না কোথাও কেউ
নিয়ে যায় অন্যতর টান
ইচ্ছেঘুমের বিলাসিতা নয়,
নয় কোনো মৌন অভিমান।
২/
==
অনুকূল বায়ূ সঞ্চালনে
পেয়ে গেছি অপার সন্তোষ
কার পিণ্ডি চাপে কার ঘাড়ে
কোথা বসে একা নন্দ ঘোষ!
৩/
==
প্রতিভার বহুমুখী শাখা
রেখেঢেকে রাখো কিছুকাল
উঠে যাক সাজোসাজো রব
জমা হোক আরো করতাল।
৪/
==
আহ্বান করেছি সজ্ঞানে
শিরোনামহীন ক্ষুদ্র পরাভব
জন্মগত শাখা প্রশাখায়
সাফল্যের স্থির অবয়ব।
৫/
==
ভেঙে পড়ে উন্মুখ ঢেউ
স্বর্ণবলয়ের রম্য প্রলোভনে
বলো দুটি অনুরাগ-কথা
বুক চিরে দেবো সঙ্গোপনে।


-------------------------


......।।উত্তরাধিকার।।.......
=================
যদি চাও আজই দিতে পারি
অনাহারে সঞ্চিত আজন্ম প্রতীক
ক্ষয় হয়ে গেলে বহু ব্যবহারে
হিসেবটি বুঝে নেবো ঠিক।
একবার তবে বলে দাও শুধু
কেন ছেঁটেছিলে ডালপালা সব?
বিক্ষত প্রত্যঙ্গ, বিদীর্ণ হৃদয়ে
আজো ভাবো বাণিজ্য সম্ভব?
ফিরে এসো তবু, ফিরে এসে
বুঝে নাও রাজপাট, তমসুক
বাসা বেঁধেছে পৃথিবীর বুকে
নিরাময়হীন গভীর অসুখ।
খোলা আকাশের কাছে
সাক্ষীহীন কথা দাও একবার,
রেখে যাবে খেলা শেষ হলে
আগামীর উত্তরাধিকার।


------------------------


 .......।।প্রান্তিক চাষী।।.......
=================
অতি গুরুপাক এই পদভারে
ন্যুব্জ তবু রত কৃষিকাজে
নাছোড় প্রান্তিক চাষী
নিরবধি গরমিল দেখে
ছিঁড়েছে হিসেবের খাতা
মুক্তপ্রাণ রিক্ত বনবাসী
ফিরে আসে বারম্বার
উৎসাহী পতঙ্গের সারি
সালতামামী বৈরী ডামাডোলে
উন্নয়ণের স্পষ্ট কুম্ভীপাকে
স্বেদময় শাপগ্রস্ত দেহ
অন্তহীন পালা এই দোলাচলে।


---------------------------


১/
==
মগ্ন মন্থনে চরাচর
নিসর্গ স্বাভাবিক ধ্যানে
প্রশ্ন কোরো না তাকে
বহুমাত্রিক; রেখো সংজ্ঞানে।
২/
==
ত্রুটিহীন কৃৎকর্মের মাঝে
আচমকা ফোটে ভাব নিরাকার
সত্যসার বেঁচে থাকে শুধু
জাগতিক অনুগতি, পারাপার।
৩/
==
বিহিত বাক্যের অন্তরে
বসতি করে নিদারূণ ক্ষয়
ষষ্ঠেন্দ্রিয় জানে তার কথা
আশ্বাসে কাটে নি সংশয়।
৪/
==
শীর্ণ দেহটি পেয়েছে শমণ
নড়েচড়ে ওঠে দধীচীর হাড়
পিঠ ঠেকেছে দেয়ালে কবেই
তবু দেখে যাবো শ্রেষ্ঠ বিচার।


----------------------


.....কাঁপো মেদিনী.....
=============
সশব্দ নাক্ষত্রিক পতনে
ভেঙে যাবে কোনোদিন
সভ্যতার নিশ্ছিদ্র ঘুম
দিশাহারা ব্যসনের ঝোঁকে
অকাতর অপচয়ে প্রাণে
উৎসবের উচ্ছাসী ধুম
খসে যাবে মৃদু লয়ে
যুদ্ধের যুগে অনবধানে
সংকল্পের প্রগাঢ় সাধন
ঘাতকেরই হাতে দেবো
জীবনের সামূহিক দায়
তথাগত প্রাণ ছেড়ে ত্রস্ত যাপন
জীবনজোড়া জুয়োখেলা নিয়ে
নিশ্চিত যাবে কিছুদূর
সুমতির ছলে দুরাচার
কেটে যাবে আরো দিনরাত
পাশ ফিরে ধীরে মেদিনী
কাঁপো তবে আরো একবার।


-----------------------


.....।।খুচরো কথা।।.....
===============
বসন্তের আর কি প্রয়োজন
সম্বৎসরই হোলি খেলা, কত সব বিনাশী আয়োজন।
দিয়ে যাও কিছু পাপ
চাই আজ তোমারও কিছু ক্ষয় হোক জমানো সন্তাপ।
প্রতিবাদ করে নি কেউ
হায়েনার সাথে পায়ে পায়ে অনুসারী নীতিবান ফেউ।
জীবন ক্ষয়ে যায়
অকারণ যুদ্ধের ছলে আর অতৃপ্ত পিপাসায়।
খুচরো কথার ফাঁকে
লুকিয়েছে পাটোয়ারী বাণী ভয় পেয়ে ফাঁপা হাঁকডাকে।

--------------------------------



.........।।জাগতিক কথা।।...........
=====================
মুষ্কিল আসান হলে ছুঁড়ে ফেলো চাবি
নিঃশুল্ক বিভবের অযাচিত দাবী।।
হেলায় ত্যক্ত দেখো স্বর্গের দ্বার
প্রাণভোমরাটি খুঁজে বাসা দীনতার।।
সংবদ্ধ একক মায়া ঘোর সংগোপনে
ঘুরপাক খেয়ে মরে পথহারা দিনে।।
বৃহত্তর ব্যবহারে নব পাঠক্রম
ব্যাহত বিজ্ঞান আর অন্ধ সংযম।।
জড়োসড়ো মরমর সনাতন ব্যথা
সম্প্রতি এ নিয়েই জাগতিক কথা।।

------------------------------

......হঠাৎ একদিন......
==============
হঠাৎ একদিন সবকিছু
সহজ হয়ে যাবে যান্ত্রিক
স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনায় জটিল
গণিত বা সম্পর্ক নাগরিক।

বজ্রআঁটুনির বেশে আসলে
সবই ছিল ফস্কাগেরো
এবেলা তাই পরে ফেলো
বাক্সবন্দী সালংকার ধরাচূড়ো।
যাত্রা শুরু হোক আবার
নড়বড়ে যানে চড়ে
জানি তবু মিলে যাবে সব
আজ হরেদরে কিম্বা গড়ে !!!

-----------------------
.....।।সঙ্কোচন।।......
=============
দুদণ্ড পান্থশালায় বসেই
চাও সব কেজো প্রতিশ্রুতি
জীবনবীমার আশ্রয় সহ
সফলকাম সুস্থ সন্ততি!
.
তবে বলো তারপরও কেন
এতসব হৃষ্ট বংশোদ্যান
ঝেঁটিয়ে সব মিথ্যে লোকলাজ
নিরবধি ব্যস্ত যুযুধান।
.
ভেবো না এ অজাযুদ্ধ,
কোনো নাটকের অলস মহড়া
যুদ্ধজয়ের রণনীতি বটে,
ছদ্মবেশে অতন্দ্র প্রহরা।
.
কি বলার থাকে এতসব
সরল সঙ্কোচনের পর
দূষণের ঘোরে রুদ্ধশ্বাস
ফুটিফাটা বুভুক্ষু অন্তর।


---------------------------
 
________সঞ্চয়________
==================
সশব্দে খুলে গেছে সিংহদ্বার
ছুঁড়ে ফেলো ‘একঘরে’ বসবাস
জরাজীর্ণ সংশয়ের সাথে
তঞ্চকতার সূক্ষ্ম ভেজাল
প্রশ্রয় প্রত্যাহারে ঘুচুক বেচাল।
.
পূণ্য জমেনি বিশেষ; পত্রপুষ্পের
সমাহারে বঞ্চিত তাই বৃক্ষ
একাকী মেনেছে জরার আলিঙ্গন
জেনে গেছে ছুঁয়ে দীর্ঘশ্বাস প্রতিদিন
পূণ্য আসলে এক দামী ভিটামিন।
.
শুষ্ক সন্তাপ পেরিয়ে এলে কিছুদূর
স্বচ্ছ দৃষ্টিতে বুঝে নিতে পারো
সমূহ লাভালাভ, স্থৈর্যের প্রকোপ
অন্যথা জন্ম-মৃত্যু, জয়-পরাজয়
অলিখিত বাক্য; তাও আখেরে সঞ্চয়।


--------------------------


.........প্রার্থনা..........
=============
দুঃসহ জ্বালা নয় মাতঃ
দাও কিছু প্রতিকারকণা
যদি ‘দিতে নাহি পার’
নির্ভেজাল স্থায়ী নিরাময়
অভ্যাসেই তবে হোক কিছু পাপক্ষয়।
.
আর কোনো কাজ নেই
একঘেয়ে শান্তির কথায়
পতাকাটি নামিয়ে দিনশেষে
মেতে ওঠো পারাবত নিধনে
কিছু ভান, কিছুটা বা ছদ্ম অভিমানে।
.
গান ভেঙে গেছে কবে
তবু কানে বাজে নির্ভুল রণন
আকালেও এই শুভ ক্ষণে
শব্দহীন অঙ্কুরিত প্রত্যয়ের লতা
বিভ্রান্ত মগ্ন শ্রোতা, ব্যর্থ কথকতা।



---------------------------------

 
.........তৃণভোজী..........
===============
অনেকটা পরিক্রমা শেষে
হট্টসঙ্গীতের দলবল নিয়ে
অসমাপ্ত সংগ্রাম, আমোদ,
কোলাহল, পাকদণ্ডী বেয়ে
বাঁকটি ওৎ পেতে থাকে
বলো, আজ যাবো কোথায়
বসে আছে নিয়তি অমোঘ
দু-একটি শিকারের আশায়।
জ্যামিতিক মাপজোখ সেরে দেখি
অতলস্পর্শী সীমাহীন খাদখানি
সংসারের দক্ষযজ্ঞে ছিলাম
নিছক এক তৃণভোজী প্রাণী!!

 ------------------------------

১/
মেনে নেবো যদি বলো আটকে আছো সীমায়
মানবো নাকো যদি বলো ব্যস্ত জীবন বীমায়!
২/
কিসের ভয়ে লুকিয়ে ফেরো মুখটি সামাজিক?
পড়বে ধরা? তাই বুঝি আজ ত্রস্ত জনান্তিক!

৩/
এই আকালে পাত পেড়েছে টম, ডিক আর হ্যারি
দানছত্তর খুলবে বোধহয় পথহারা সংসারী!
৪/
জগৎ জুড়ে ভানভণিতার চলছে কিসব খেলা
ভাবছি এবার হয়েই যাবো শুভঙ্করের চেলা !

.........ভরাডুবি.........
================
প্রত্যন্ত কোনো এক কোণে
নির্ণায়ক নীরব ভরাডুবি
খবর নয়। কখনো কোথাও
উড়ে যাবে উদাস দুটি বক, দলছুট বুভুক্ষু একটি মাছ
ঘনকালো মেঘ চকিতে উধাও।

আর কতকাল কারাবাস দেবে
সুপ্ত শিশুকে অমানিশা
করতলে লেখা আছে সব
প্রগতির দুস্তর ধ্যানে একদিন হবে না কি ভাবো
পর্বতের মূষিক প্রসব?
জ্ঞানাবধি একটি মাত্র বৃক্ষে
রেখেছি তীক্ষ্ণ অভিনিবেশ
তাই বলে নিয়মরক্ষা নয় তা
রহস্য আর তেমন রহস্য হয়ে বেঁচে নেই আজ
একবার যে ঘুরে দাঁড়িয়েছি; এইই সফলতা।

--------------------------------------
















No comments:

Post a Comment